বুড়িগঙ্গা-তুরাগ বাঁচাতে সমন্বিত রোডম্যাপের তাগিদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি
বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ ও দখল নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে ‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নদী রক্ষায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দেশের নদ-নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। সেই অনুযায়ী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নদী রক্ষায় জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ তুলে ধরেন, ঢাকার নদীগুলোকে বাঁচাতে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে তিনি জানান, শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্য কিংবা প্লাস্টিক যাতে নদীতে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
প্লাস্টিক দূষণ ও নদীভাঙন রোধে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উৎপাদনের উৎস নিয়ন্ত্রণসহ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উপায়ে নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভূমিক্ষয় রোধে নদীপাড়ে ব্যাপকভাবে বিশেষ জাতের ঘাস রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ওয়ারপো’র মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সিইজিআইএস (CEGIS)-এর নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রিভার ফেডারেশন ও ‘নোঙর’সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি এবং নদী দুটি বাঁচাতে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।



