ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
সীমান্ত পেরিয়ে শান্তি ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে খেলাধুলা

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ম সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ছবি : আগামীর সময়
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক বলেছেন, খেলাধুলা শুধু পদক জয়ের প্রতিযোগিতা নয়, এটি সীমান্ত, ভাষা ও সংস্কৃতির বিভেদ অতিক্রম করে মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ১০ম সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, খেলাধুলার এমন এক অনন্য শক্তি রয়েছে, যা সব ধরনের সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করতে পারে।
আসরে ৭০০-এরও বেশি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাকে একসঙ্গে দেখে প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; এটি শান্তি, বন্ধুত্ব ও আঞ্চলিক সহযোগিতারও একটি বড় মাধ্যম। বাংলাদেশের জন্য এই আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন শুধু প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক আস্থার প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, যুব উন্নয়নকে সরকার জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ জন্য বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ, উচ্চমানের প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানের এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের সক্ষমতা অর্জন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রারই প্রমাণ বলে তিনি মনে করেন। সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন ও আয়োজক কমিটিকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের স্বাগত জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি ক্রীড়াবিদ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তাঁরা সম্মিলিতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্য ও সম্প্রীতির দূত।
অ্যাথলেটদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়েরা এই মঞ্চে পৌঁছেছেন। তাই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে লড়াই করার পাশাপাশি ক্রীড়াসুলভ আচরণ, বিনয় ও পারস্পরিক সম্মান যেন সব সময় অটুট থাকে।
প্রতিমন্ত্রী বিজয়কে বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ এবং পরাজয়কে মর্যাদার সঙ্গে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।





