মনিপুর ও বনপাড়া স্কুলে ভয়াবহ জালিয়াতি, ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী
- মনিপুর স্কুলে ৬০২ কোটি টাকা লুট
- বনপাড়া স্কুলে ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের সনদ জাল

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর স্কুল এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির তদন্ত প্রতিবেদন দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৮ মে আগামীর সময় ‘মনিপুর স্কুলে লুট ৬০২ কোটি’ এবং ১৯ মে ‘বনপাড়া স্কুলে ৭৬ শিক্ষকের ৭৩ জনই ‘ভুয়া’শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠান দুটির তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ চেয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল তলব করেছেন তিনি। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিআইএ) এই ফাইলের সারসংক্ষেপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে এই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়মের খবর দেখে আশ্চর্য এবং ক্ষুব্ধ হয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ চেয়েছেন। আমরা ডিআইএকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’
ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিগত ১৬ বছরে মনিপুর স্কুলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬০২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ঢাকা-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার এবং তারই নিয়োগ করা পলাতক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সিন্ডিকেট এই অর্থ লুটপাট করেছে।
এরমধ্যে শুধু ভবন নিমাণেই লুট হয়েছে ৪৩৬ কোটি টাকা। বিধিবহির্ভূতভাবে একাডেমিক উন্নয়ন ও নগর ভাতার নামে ৮৭ কোটি, বিশেষ ক্লাসের সম্মানী ও পরিচালনা কমিটির সম্মানী থেকে কেটে রাখা হয়েছে ৩৬ কোটি, মুদ্রণ ও ছাপানোর নামে ১১ কোটি লুটপাট হয়েছে। পরীক্ষা ছাড়াই অবৈধভাবে ৬৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের বনপাড়া স্কুলে ঘটেছে আরও নজিরবিহীন জালিয়াতি। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনেরই শিক্ষাগত ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল ধরা পড়েছে তদন্তে। এরমধ্যে কলেজে ৬১ জনের সবাই এবং স্কুল শাখার ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনই সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি করছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, কলেজের অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পারিবারিক পুনর্বাসন কেন্দ্র বানিয়ে তুলেছিলেন। তিনি তার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে, বোন, বোনের জামাই, শ্যালকের স্ত্রী, চাচাতো ভাইবোন এবং এমনকি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। শুধু তাই নয়, অধ্যক্ষ ইমদাদ চাকরিতে ঢাকা কলেজের যে স্নাতক সনদ ব্যবহার করেছেন সেটিও অন্য এক শিক্ষার্থীর। এছাড়া তার মাস্টার্স সনদটি ‘আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি’ নামের একটি অস্তিত্বহীন ও অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের।
২০১৪ সালে কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পরও ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আগের নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বেতন ও ভাতা নিয়মিত তুলেছেন। এই ভুয়া শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে, যা ফেরত আনার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তদন্ত করে দুটি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।




