বিরোধীদলীয় নেতা
পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে

জামায়াত আমির—ফাইল ছবি
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ ‘দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক’ না হলে দেশ থেকে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে। কিন্তু এর অন্যথা হলে দুর্নীতি যাবে না।
আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেছেন তিনি।
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আর্থিক খাত তথা অর্থনীতি, উন্নয়ন বরাদ্দ, সরকারি দলের কথিত আত্মপ্রচার, সংসদ পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আনা সরকারের অগ্রাধিকার—অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্য উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘আমরা এর প্রতিফলন সংসদ থেকে শুরু করে সর্বত্র দেখতে চাই।’
শফিকুর রহমান বলছিলেন, ‘কারও একার পক্ষে কোনো খাতকে আলাদাভাবে দুর্নীতিমুক্ত করা অসম্ভব। এর একটা সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন। আমরা আপাতত চাচ্ছি, দুর্নীতির হাত চেপে ধরেন এবং হাতের মধ্যে কড়া লাগিয়ে দেন।’
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি অভিযোগ করে সুষমভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনের দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বললেন, সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি।
বিরোধী দলের আসনে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, এ নিয়ে সংসদে মন্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনের এমপিরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিভেদ তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাই।
সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের নামফলক বসানোর পুরনো সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বললেন, সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। কারও যদি নিজের নামের প্রতি মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন, তাতে কারও আপত্তি থাকবে না; কিন্তু জনগণের টাকায় কোনো আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।
জাতীয় সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই সংসদ অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং আমরা এটিকে মজলুমের মিলনমেলা বলে বিশ্বাস করি। এই সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলবে, দেশের মানুষের মন থেকে হতাশা তত বেশি দূর হবে, তাদের আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি পাবে।’
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা জানালেন, সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের স্বার্থে, বেকারত্ব দূরীকরণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু বিলটির ওপর মনের মতো করে বিস্তারিত আলোচনা ও অংশগ্রহণ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দল বঞ্চিত হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা না রেখে বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, অন্যথায় সংসদে বসা এবং জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া বিষয়টি আর কোনো উপকারে আসবে না।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।





