ডেঙ্গু রোগী বাড়লে বাড়ানো হবে চিকিৎসক, প্রস্তুতির বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- ডেঙ্গু প্রটোকল মেনে চিকিৎসার আহ্বান
- প্লাজমা লিক ও শক সিনড্রোমে সতর্ক থাকার নির্দেশ
- প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত চিকিৎসক মোতায়েনের আশ্বাস

ছবি: আগামীর সময়
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হলে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ ও মোতায়েনের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রোগীর চাপ বেড়ে গেলে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। যাতে কোনো রোগী চিকিৎসার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জনগণের সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলছিলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কাজ করছি। অনেকটা এগিয়েছি। তবে সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।’
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় জাতীয় প্রটোকল অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং রোগীর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
‘প্লাজমা লিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে প্রয়োজনীয় ফ্লুইড দিতে হবে। যাতে রোগী শকে চলে না যায়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে’, যোগ করেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘কোনো এলাকায় রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও জনবল সরবরাহ করবে। যেভাবেই হোক আমাদের মানুষকে বাঁচাতে হবে।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান।




