র্যাবের ব্রিফিং
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেটকে হত্যা করা হয় চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে

বুলেট বৈরাগী
চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। পরিকল্পিতভাবে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিএনজিতে থাকা চারজনসহ মোট পাঁচজনকে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন। গতকাল রবিবার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ইন্তেখাব চৌধুরী।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল তার মরদেহে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহত বুলেটের মা।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সিএনজিতে থাকা চারজনকে আটক করে র্যাব। এ ছাড়া নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয় আরেকজনকে।
অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সক্রিয় সদস্য। দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করতেন তারা।’
‘ঘটনার রাতে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর টার্গেট করা হয় বুলেট বৈরাগীকে। পরে তাকে সিএনজিতে তুলে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর ফেলে দেওয়া হয় চলন্ত গাড়ি থেকে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার,’ বলছিলেন তিনি।
তিনি আরো জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানায়। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।



