রোমান-দিয়ার উত্তরসূরিদের প্রমাণের মঞ্চ

ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ মূলত এশিয়ার অনগ্রসর দেশগুলোর তরুণ ও সম্ভাবনাময়ী আরচারদের প্রমাণের মঞ্চ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় টুর্নামেন্টটি। আজ থেকে টঙ্গীতে ১৭ দেশের ৭০ আরচারকে নিয়ে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। যেখানে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের তেমন কোনো তীরন্দাজ অংশ নিচ্ছেন না। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে এই টুর্নামেন্ট খেলবেন বাংলাদেশের তীরন্দাজরা।
একটা সময় রিকার্ভে নিয়মিত সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসে বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন রোমান সানা। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকেও সরাসরি খেলার কীর্তি দেখান রিকার্ভ আরচার সাগর ইসলাম।
এই অগ্রযাত্রায় ছেদ পড়ে রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকী ও হাকিম আহমেদ রুবেল নীরবে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ায়। তাদের অনুপস্থিতিতে রিকার্ভে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনো ঘোচাতে পারেননি বর্তমান প্রজন্মের আরচাররা।
ভারত, জাপান, মালয়েশিয়ার মতো আরচারিতে এগিয়ে থাকা এশিয়ার বেশ কিছু দেশের আরচার অংশ নিচ্ছেন এই টুর্নামেন্টে। তবে তাদের কেউই শীর্ষ পর্যায়ের নন। টুর্নামেন্টে সিনিয়র তিনটি ইভেন্টের পাশাপাশি আছে অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সীদের তিনটি ইভেন্ট। সিনিয়র তিন ইভেন্টে বাংলাদেশ পুরুষ দলে আলিফ ও রামকৃষ্ণ এবং নারী দলে আছেন নাসরিন ও সীমা আক্তার। আর অনূর্ধ্ব-১৮ দলে অংশ নেবেন জাতীয় দলের নবীন চার সদস্য ইমতিয়াজ আমিন ফাতেমি, সাইফুল ইসলাম, সায়মা সালাহ উদ্দিন ও সোনালী রায়।
আলিফ গত বছর এশিয়া কাপে একক ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতলেও এ বছর দুটি বিশ্বকাপ ও একটি এশিয়া কাপে সাফল্য পাননি। রামকৃষ্ণও তিন আন্তর্জাতিক আসরে পারেননি পদকের কাছাকাছি পৌঁছাতে। দীর্ঘ বিরতির পর খেলায় ফেরা নাসরিন এ বছর দুটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। সীমা একটি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়ে নকআউটের শুরুতেই বিদায় নেন।
আট বছর বাংলাদেশের দায়িত্বে থাকা জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক রুবেল, দিয়া, রোমানদের পর নতুন প্রজন্মে বিশ্বাস রাখতে চান, ‘রোমান, রুবেল, দিয়া অনেক অভিজ্ঞ ছিল। বর্তমানে যারা আছে তাদেরও সামর্থ্য আছে। তবে তাদের অভিজ্ঞতা কম এবং ধারাবাহিকতায় কিছুটা ঘাটতি আছে। এসব সমস্যা শুধরে নিলে এশিয়াডে আমাদের সুযোগ থাকবে।’
টুর্নামেন্ট আয়োজনে বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনকে অর্থ সহায়তা করছে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।




