উজানের পানিতে চাপে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বন্যার পূর্বাভাস

সংগৃহীত ছবি
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টি আর উজানের পানির চাপে সাতটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাওরাঞ্চলসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে আরও বেড়েছে বন্যার শঙ্কা। আজ সোমবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তাদের বন্যা পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা, হবিগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইল এবং হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ বেড়েছে।
সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, হাওর বেসিনের তিন জেলার সাতটি নদীর কয়েক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার নলজুর, ধনু-বাউলাই, সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংশ, মগরা, কালনী ও সুতাং নদীর পানি বিভিন্ন মাত্রায় বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। কোথাও কোথাও কমলেও সামগ্রিকভাবে হাওর অঞ্চলে নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে ওইসব জেলার হাওরসংলগ্ন নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের কিছু নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সেখানে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। হবিগঞ্জের সুতাং নদী এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকায় সেখানেও পরিস্থিতির উন্নতির তেমন লক্ষণ নেই।
পাউবো আরও জানিয়েছে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েক দিনে তা বাড়তে পারে। বিশেষ করে জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।



