‘বেণুকা’র সুরে জেগে উঠল নজরুলের রাগভুবন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বেণুকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি: আগামীর সময়
বাংলা গানের পরিসরে ধ্রুপদি সংগীতের রাগ-রাগিণী, তাল ও সুরের শাস্ত্রীয় সৌন্দর্যকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আপন সৃষ্টিশীলতায় রূপ দিয়েছেন স্বতন্ত্র নান্দনিক ভাষায়। নজরুলের সেই রাগভিত্তিক গানের সৌন্দর্য ও সৃষ্টিশীল বৈভব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে ‘বেণুকা : রাগে, সুরে, শ্রুতির নিবিড়তায় কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।
নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে আমাদের নানা বৈচিত্র্যকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের দেশ, আমাদের জাতি ও আমাদের জনগণের পরিচয়কে সারা পৃথিবীর বুকে তুলে ধরতে চাই।’
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘নজরুলের মতো সুরস্রষ্টা সংগীতকার দ্বিতীয়টি নেই। বিশ্বের অনেক বড় বড় সঙ্গীতজ্ঞদের আমরা জানি, কিন্তু নিজে গান লিখে সুর করা, যার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশের আন্দোলন এবং সংস্কৃতিতে, তারই অভিঘাত আমরা ৩০০ বছর পরেও টের পাচ্ছি। সুতরাং নজরুল আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন কবি, তিনি আমাদের সমস্ত সংগ্রামে, সমস্ত দুঃসময়ের সাথী। গানের এমন কোনো পর্যায় নেই যে, তিনি রচনা করেননি।’
কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নতুন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ‘১০০ জন বংশীবাদককে নিয়ে নজরুলের গান ও সুর পরিবেশনার আয়োজন আমরা করতে যাচ্ছি। আমরা আরও অনেক নতুন পরিকল্পনা করতে যাচ্ছি, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয় একক সংগীত দিয়ে। শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ পরিবেশন করেন ‘এসো শংকর ক্রোধাগ্নি’, নাদিয়া আরেফীন শাওন ‘জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী’, মুন্নী কাদের ‘দোলন চাঁপা বনে দোলে’ এবং অলোক কুমার সেন ‘সতি হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে’।
এরপর কাথ্যাকিয়া দা সেন্টার অফ আর্টস পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য ‘পায়েলা বোলে রিনিঝিনি’। নৃত্য পরিচালনা করেন এস এম হাসান ইশতিয়াক ইমরান। পরে সংগীতশিল্পী শহীদ কবির পলাশ ‘জাগো অরুণ ভৈরব জাগো’, ইয়াকুব আলী খান ‘হাসে আকাশে শুকতারা হাসে’, ড. নাসিদ কামাল ‘রুম ঝুম রুম ঝুম কে বাজায়’ এবং ফাতেমা তুজ জোহরা ‘শংকর অঙ্গলীনা যোগ মায়া’ পরিবেশন করেন।
বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য ‘বন-কুন্তল এলায়ে’। নৃত্য পরিচালনা করেন ফারহানা চৌধুরী বেবী। এরপর নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ পরিবেশন করেন একক নৃত্য ‘আমার বিজন ঘরে’।
পরবর্তী সময়ে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মোনালীন আজাদ, ইয়াসমিন মুশতারী, নাহিদ মোমেন, বিজন মিস্ত্রী ও মৃদুলা সমদ্দার। সবশেষে জাহিদুল ইসলাম সানির পরিচালনায় শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা পরিবেশন করেন সমবেত নৃত্য ‘রুম ঝুম রুম ঝুমঝুম ঘন দেয়া বরষে’।







