বাজেটে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ’ শীর্ষক আলোচনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ঘোষিত ক্রিয়েটিভ ইকোনমি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি উঠে এসেছে এক মুক্ত আলোচনায়।
আজ শনিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সেমিনার কক্ষে জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র সংসদকর্মী মোহাম্মদ নূরউল্লাহ। প্রবন্ধে নূরউল্লাহ জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’কে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
চলচ্চিত্র, অডিও-ভিজ্যুয়াল, অ্যানিমেশন, গেমিং, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য ৩ শত কোটি টাকার প্রত্যক্ষ সরকারি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিলসহ মোট ৮ শত কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে সৃজনশীল তরুণদের জন্য।
তবে এ তহবিলের বণ্টন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য মাত্র ৮২৬ কোটি টাকা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি খাতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানানো হলেও এবারের বাজেটেও প্রতিফলিত হয়নি তা।
নূরউল্লাহ জানিয়েছেন, সংস্কৃতি ও তথ্য খাতের বরাদ্দের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হওয়ায় চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন, তৃণমূলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও উৎসব এবং সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দেশে ক্রমবর্ধমান প্রগতিবিরোধী ও অসহিষ্ণু সামাজিক প্রবণতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। অথচ এ বিষয়ে জাতীয় বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা বিশেষ বরাদ্দ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি জহিরুল ইসমাম কচি লিখিত পাঠান। তা পড়ে শোনান সহসভাপতি আকতানিন খায়ের তানিন। এতে বলা হয়, এবার বাজেটে মোট ৮ শত কোটি টাকার একটি সম্ভাব্য সৃজনশীল অর্থনীতি তহবিলের ধারণা সামনে এসেছে। তবে এই তহবিলের আর্থিক ভিত্তি ও কাঠামো নিয়ে রয়ে গেছে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন। ঘোষিত ৮শত কোটি টাকার মধ্যে ৫শত কোটি টাকাই নির্ভর করছে সিএসআর তহবিলের ওপর, যা স্বভাবতই স্বেচ্ছামূলক এবং অনিশ্চিত। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র, ওটিটি, অ্যানিমেশন, গেমিং, সংগীত, প্রকাশনা, অডিও-ভিজ্যুয়াল শিল্প কিংবা অন্যান্য সৃজনশীল উপ-খাতে এই তহবিল কীভাবে বণ্টন হবে, কোন খাত কতটুকু পাবে, কী ধরনের নীতিমালা ও জবাবদিহির কাঠামোর মাধ্যমে তা পরিচালিত হবে, এসব বিষয়ও অনির্ধারিত এখনো।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর চলচ্চিত্র, চারুকলা ও গবেষণা বিভাগের সম্পাদক সজীব তানভীর, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নারগিস আক্তার, চলচ্চিত্র প্রযোজক শাহরিন সুমি এবং পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক, জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলনের সংগঠক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ নিশ্চিত করা, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বরাদ্দ ৫ শত কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং একটি স্থায়ী ‘জাতীয় সৃজনশীল শিল্প কমিশন’ গঠনের দাবি জানান। এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হল আবার চালু করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠন, সিনেমা হলের আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘সংস্কৃতি সুরক্ষা টাস্কফোর্স’ গঠনের সুপারিশ করা হয়।





