কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডে হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার ইমান কারাগারে

ছবিঃ আগামীর সময়
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. ইমান উল্লাহ প্রকাশ মাস্তানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৫ এপ্রিল) ইমান উল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না। একইসঙ্গে তার ১০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয় আগামীকাল সোমবার।
এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জুয়েল রানা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৫/৭ জনকে। মামলার পর রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসামি ইমানকে। পরে তাকে হাজির করা হয় ঢাকার আদালতে। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আবেদন করেন ১০ দিনের রিমান্ড।
ওই আবেদনে বলা হয়েছে, আসামির ইচ্ছায় ও সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না রেখে পরিচালনা করছিলেন কারখানা। সেখানে কাজ করত অপ্রাপ্ত শিশুরা। আসামি ইমান উল্লাহর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে চলছিল এ কারখানার কার্যক্রম। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় অনেক লোক। গুরুতর আহত হয়ে অনেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ভর্তি। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদসহ তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে এ ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন সম্ভব। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ রয়েছে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং এ হত্যা মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ উদ্ধারের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড অত্যন্ত প্রয়োজন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ থানাধীন প্রোপাইটর মো. আকরাম উল্লাহ আকরামের মালিকানাধীন মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিটের চেষ্টায় বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৬ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।



