বলছে পুলিশ
জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শিরীন শারমিন

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শিরীন শারমিন।
এদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশ প্রহরায় তাকে হাজির করা হয় আদালতে। রাখা হয় সিএমএম আদালতের হাজতখানায়। এরপর তাকে কারাগারে আটক আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন।
আবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা, শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য মামলার তদন্তে সহায়ক হবে। যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে তার দেওয়া তথ্যাদি। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়াসহ রয়েছে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা। এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
হত্যাচেষ্টা মামলার সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগ থানার আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আদেশে ও বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এসময় মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিমের বাম চোখ ভেদ করে চোখের রেটিনার পেছনে একটি গুলিবিদ্ধ হয়, যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও বের করতে পারেননি। এছাড়া মাথায় দুটি, কপালে দুটি, মুখের ডান চিবুকে একটি ও ডান হাতের কনুইতে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০টি গুলিবিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন ভুক্তভোগী আশরাফুল। পরে আন্দোলনকারী কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান এবং দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে অপারেশন শেষে পাঠানো হয় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে। সেখানে করা হয় বাম চোখের অপারেশন। পরে সিএমএইচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অপারেশন করে বের করেন গুলি। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন লালবাগ থানায়।















