চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে নতুন রাজনীতির থাবা

ফাইল ছবি
রাজনীতির রেষারেষিতে পড়েছে চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের আয়োজন। কয়েক দশক ধরে বৈশাখের মূল দুটি আয়োজন হয়ে আসছে বন্দরনগরীর ডিসি হিল এবং সিআরবির শিরিষতলায়। সেখানে যারা মূল আয়োজক তাদের সরিয়ে ভেন্যুগুলো দখলে রাখতে সক্রিয় হয়েছেন বিএনপিপন্থী একদল পেশাজীবী, পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ।
এ অবস্থায় ডিসি হিল থেকে মূল আয়োজকরা সরে গিয়ে শহীদ মিনারে এবার পহেলা বৈশাখের ‘নামেমাত্র’ কর্মসূচি আয়োজনে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে সিআরবির শিরিষতলায় মূল আয়োজকদের সঙ্গে বিএনপিপন্থীদের এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।
১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিলে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ উদযাপন করে আসছে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ’। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালেও তারা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রস্তুতি নেয় চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণের আয়োজনের প্রস্তুতি। কিন্তু চৈত্র সংক্রান্তির আগের রাতে মিছিল নিয়ে এসে মঞ্চ ভাঙচুর করে আয়োজন পণ্ড করে দেয় ‘ছাত্র-জনতা’। এ বছরও জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির আবেদন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি ডিসি হিলে বর্ষবরণ আয়োজনের অনুমতির আবেদন করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিনও। এ অবস্থায় নিজেরাই ডিসি হিলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন।
পহেলা বৈশাখের সকালে সার্কিট হাউজ থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের করা হবে বলে জানালেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন। ‘শোভাযাত্রা নিয়ে আমরা ডিসি হিলে যাব। চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে অনুষ্ঠান করার জন্য নাম নিবন্ধনের অনুরোধ করা হয়েছে। যারা আগ্রহী সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে’— বলছিলেন তিনি।
ডিসি হিল ছাড়াও প্রতিবছরের মতো জেলা প্রশাসন শিল্পকলা একাডেমিতেও বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বলে শরীফ উদ্দিন জানান। ডিসি হিলে অনুমতি না পেয়ে শহীদ মিনারে শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী টিটো।
চৈত্র সংক্রান্তি এবং বর্ষবরণের শোভাযাত্রা কর্মসূচি বাদ দিতে হচ্ছে জানিয়ে টিটো বললেন, ‘ডিসি হিলে যেহেতু জেলা প্রশাসন নিজেরাই আয়োজন করছে, আমরা শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রথমবারের মতো আয়োজন করছি। অনুষ্ঠানসূচী চূড়ান্ত করা হবে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে।’
এদিকে ২০০৯ সাল থেকে গত দেড় দশক ধরে সিআরবির শিরিষতলায় চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ‘নববর্ষ উদযাপন পরিষদ’। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গতবছরও তারা সেখানে দুইদিনের অনুষ্ঠান করেছে। তবে এবার নববর্ষ উদযাপন পরিষদের পাশাপাশি ‘সম্মিলিত বৈশাখ উদযাপন পরিষদ’ নামে আরও একটি সংগঠন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে। এই আবেদন করেছেন নবাগত সংগঠনটির আহ্বায়ক বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান। এতে ‘ঝুলে গেছে’ সেই আয়োজনও।
অবশ্য উভয় সংগঠনের সংগঠকরা জানিয়েছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মঙ্গলবার তাদের বৈঠকে ডেকেছেন। যদিও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।
বিএনপি নেতা নিয়াজ মোহাম্মদ খান ১৫ বছর তাদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘১৫ বছর ওরা ইচ্ছেমতো নিজেরা আয়োজন করছে। জাতীয়তাবাদী ঘরানার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে পাত্তাই দেয়নি তারা। এরপরও আমরা চাই সবাই মিলে যৌথভাবে আয়োজন করব।’
নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফারুক তাহের অবশ্য আশাবাদী। তারা ভাষ্য, বিভ্রান্তির কোনও অবকাশ নেই। নতুনভাবে যারা যুক্ত হতে চাচ্ছেন তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। উনারা বলেছেন— আপনারা এতবছর ধরে করে আসছেন যেহেতু আপনারাই করেন, তবে আমাদের লোকজনকেও একটু সুযোগ দেবেন। আমরা বলেছি— আমাদের এখানে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য দরজা খোলা। অতীতেও সবাই এসেছেন।’















