বাবা ও মেয়েকে হত্যা
পৃথক মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি একই বেঞ্চে করার আবেদন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খুলনায় লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগাপাড়া এলাকায় ২০১৫ সালে বাবাকে হত্যা এবং ধর্ষণের পর মেয়েকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল আবেদন হাইকোর্টের একই বেঞ্চে শুনানি করতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছে বাদিপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্টে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।
আজ বুধবার ডেথ রেফারেন্সগুলো শুনানির জন্য আসলে এখতিয়ার না থাকায় বাবা হত্যার মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুন হন খুলনার লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগাপাড়া এলাকার ইলিয়াস চৌধুরী ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানা। এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী।
মামলা দায়েরের পর লিটন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বীকারোক্তিমূলকমূলক জবানবন্দীতে লিটন বলেছেন, ‘পারভীনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।’ তারপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার মিল থাকা ও আসামি একই হওয়ায় দুটি মামলারই বিচার হয় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।
দুটি মামলাতে রায় হয় ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই। বাবা হত্যার ঘটনায় আসামি মোহাম্মদ লিটন, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান পলাশ ও শরীফুল ইসলাম নামে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩।
পৃথক রায়ে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি মোহাম্মদ লিটন, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান পলাশ ও শরীফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন একই ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন লিটন, সাইফুল ও আবু সাঈদ। বাকি দুজন পলাতক।
নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা করেন জেল আপিল।
এদিকে রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদন্ডাদেশ অনুমোদন এবং একই রায় হতে উদ্ভূত জেল আপিল দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। সে অনুসারে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে বুধবার পারভীন সুলতানা হত্যার মামলাটি শুনানির জন্য আসে।
ঘটনার মিল থাকায় বাবা হত্যার মামলাটিও আসে এই বেঞ্চে। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদন্ডাদেশ ছাড়া অন্য কোনো মামলা শুনানি করার এখতিয়ার না থাকায় বাবা হত্যার মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এমন পরিস্থিতিতে মামলা দুটি একই বেঞ্চে শুনানি করতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছে বাদিপক্ষ।





