ফের ৩ দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছের

ছবি: আগামীর সময়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন উত্তরা পূর্ব থানার মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে কোতোয়ালি থানায় করা অনিক কুমার দাস হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কে এম আবদুল শরিফুল ইসলাম। প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাকে গ্রেপ্তার দেখান। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে মিছিল গেলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অতর্কিত গুলিতে আহত হন অনিক কুমার দাস। পরে তাকে প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অনিক কুমার দাস বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৩০ মার্চ মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে ৫ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একই দিনে পল্টন মডেল থানার বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং এ মামলায় চার দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় ১৭ ও ২০ এপ্রিল দুই দফায় তিন দিন করে মোট ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এরপর উত্তরা পূর্ব থানার মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় ২৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানোর পর পর্যায়ক্রমে ২৪ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুদিন, ২৯ এপ্রিল তিন দিন এবং ২ মে আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।



