বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
ব্যবস্থাপকদের ‘শ্রমিক’ সংজ্ঞার বাইরে রাখার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে কর্মরতদের ‘মালিক’ হিসেবে গণ্য করে শ্রমিকের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার বিধানের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জানতে চেয়েছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে কর্মরতদের ‘মালিক’ হিসেবে গণ্য করে শ্রমিকের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯)(খ) ও ২(৬৫) কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে হবে। এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এ আদেশ দেন।
আইন সচি, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) প্রধান পরিদর্শককে এতে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, বায়েজিদ হোসেন, রাসেল হোসেন, মাকসুদুর রহমান এবং মারুফ হাসান তমাল বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯)(খ) ও ২(৬৫) এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং তাকে সহযোগিতা করেন আবেদনকারী আইনজীবীরা।
আবেদনে বলা হয়েছে, উক্ত বিধানের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক বা তদারকির দায়িত্বে লিখিতভাবে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ‘মালিক’ হিসেবে গণ্য করে ‘শ্রমিক’ এর সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা শ্রম আইনের অধীন কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা, সুবিধা, প্রাপ্তি ও প্রতিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ ও ২০২২ এর তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬৫ থেকে ৮০ লাখ বেসরকারি খাতের কর্মী এই বিধানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা দেশের মোট কর্মশক্তির ১০ শতাংশের বেশি। রিট আবেদনকারীরা বলছেন, এত বিশালসংখ্যক নাগরিককে এভাবে আইনি সুরক্ষার বাইরে রাখা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৪৪ অনুচ্ছেদের আলোকে আইনের সমান সুরক্ষা ও আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই বিধানের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির বেসরকারি কর্মজীবীকে শ্রম আদালতের এখতিয়ারের বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা তাদের চাকরিসংক্রান্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো উপযুক্ত ফোরামই খুঁজে পাচ্ছেন না।







