টিকেট কিংডমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে বিমানের টিকিট বিক্রির নামে বড় ধরনের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘টিকেট কিংডম’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৫ মে) ‘স্বপ্ন ট্যুর’-এর পক্ষ থেকে এক ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করা হয়।
স্বপ্ন ট্যুরের স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদুর রশিদ অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৫ আগস্ট ‘টিকেট কিংডম’-এর স্বত্বাধিকারী আইরিন আক্তারের সঙ্গে এয়ার টিকিট বিক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত আইরিন আক্তার আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) অনুমোদনের মাধ্যমে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের টিকিট ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, হজযাত্রী ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন।
তবে বিক্রি করা টিকিটের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ পরিশোধ না করেই তিনি কার্যক্রম বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
মাসুদুর রশিদ আরও বলেছেন, আইরিন আক্তারের দেওয়া দুটি চেক ব্যাংকে জমা দিলে দেখা যায়, চেকের স্বাক্ষরের সঙ্গে ব্যাংকে সংরক্ষিত স্বাক্ষরের মিল নেই এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থও ছিল না।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি নন-এফআইআর, একটি এফআইআর এবং দুটি চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আইরিন আক্তার গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
তার দাবি, আইরিন আক্তার, উমায়ের করিম ইফতি এবং হাবিবুল ইসলাম বাবলুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ২১ থেকে ২২টি মামলা রয়েছে। আরও কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সিও তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযোগগুলোর তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে স্বপ্ন ট্যুরের ২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৭ টাকা, জিয়ারাতুল বায়তুল্লাহর ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সাউথ বাংলা হজ এজেন্সির ৯০ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ট্যুরিজমের ১ কোটি ৪ লাখ টাকা, মদিনা ট্রাভেল এজেন্সির ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, নিউরন এডুকেয়ার ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং রাশেদ নামের এক সেনা সদস্যের ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।


