বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলছে পরিকল্পিত ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইনিং’

ছবি: আগামীর সময়
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইনিং’ চলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। এর পেছনে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা বহিঃশক্তির সুবিধা জড়িত কিনা, সেটিরও তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর শাহবাগে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব বলছিলেন ডা. রফিক। চিকিৎসকদের নিয়ে কটূক্তি, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের চিকিৎসকবৃন্দ’ ব্যানারে পালিত হয় এই কর্মসূচি।
এ মানববন্ধনে ছিলেন বিভিন্ন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংগঠনের শতাধিক চিকিৎসক।
আয়োজনে বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক বলেছেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। স্বাস্থ্যখাতে সমস্যা থাকলে তা নিয়ে আলোচনা হোক, জবাবদিহি হোক, সংস্কার হোক। কিন্তু মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, অপমানজনক ভাষা এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তার অভিযোগ, ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাশের একটি দেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশিদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিলিয়ন ডলারের সেই ব্যবসায় ধস নেমেছে। তাই পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসকদের সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে কিনা, সেটি তদন্তের দাবিও করেছেন ডা. রফিক।
‘স্বাস্থ্যখাতকে দুর্বল করা মানে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিকে দুর্বল করা। চিকিৎসক ও রোগীকে প্রতিপক্ষ বানানো যাবে না। চিকিৎসক ও রোগী একই পক্ষের মানুষ। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই— মানুষের জীবন বাঁচানো’— যোগ করেছেন বিএনপির এই স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক।
ডা. রেজওয়ান তাহসিন সীমান্তের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএমইউর প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, ঢামেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা, বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শফিউদ্দিন, রেডিওলজি ও ইমেজিং সোসাইটি সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মিয়া ওয়াহিদুজ্জামান, সোসাইটি অব মেডিসিনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া আল আজিজ, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উপ-প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. লোহানী তাজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান নোমান, ঢামেক শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. সামী আল হাসান ইমন, বিসিএস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা আসাদুজ্জামান রতন, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল, ডা. মমি আনসারীসহ অনেকে।
এ সময় সাংবাদিক মাসুদ কামালের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘৃণ্য, বিদ্বেষমূলক ও চিকিৎসক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। বক্তব্য প্রত্যাহার করে চিকিৎসক সমাজ ও জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তারা। নয়তো সরকারের কাছে এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাবেন চিকিৎসক নেতারা।
তাদের ভাষ্য, চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিরাপদ করা, চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ককে আস্থার ভিত্তিতে শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যখাতকে পরিকল্পিত অপপ্রচার থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।




