ঢাকায় চোরাই বাইকের গন্তব্য কুমিল্লা-নোয়াখালী
- লক ভাঙতে লাগে কয়েক সেকেন্ড
- বিশেষ চাবিতে চোখের পলকে হাওয়া মোটরসাইকেল
- চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৯ মোটরসাইকেল

সংগৃহীত ছবি
শখের মোটরসাইকেলটি বাইরে লক করে নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন, তার প্রয়োজনের বাহনটি আর সেখানে নেই। চোখের পলকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত ২ অক্টোবর বিকেলে মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডের বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বাহনটি। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এই চুরির ঘটনা সামনে আসার পর তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বেরিয়ে আসে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের কর্মকাণ্ড। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলো সরবরাহ করা হতো কুমিল্লার লাকসাম ও নোয়াখালীর চাটখিলে। এ ঘটনায় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গ্রেপ্তাররা হলেন- রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল (৩০), আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০), ফয়সাল (২৫), সৌরভ (২২), জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুম (২২)। তাদের কাছ থেকে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেলের লক ভাঙার দুটি লোহার চাবি এবং চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফুটেজটি গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসার পর চোরদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেন ডিবি-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দলের সদস্যরা। ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার পর শুরু হয় অভিযান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিন রাজধানীর সবুজবাগের নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে লক ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকেও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের সন্ধানে ঢাকার বাইরে অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার হন ফয়সাল ও সৌরভ। অন্যদিকে নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক মাসুমকে। সব মিলিয়ে চক্রটির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নয়টি মোটরসাইকেল। জব্দ করা হয়েছে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা।
ডিবি জানায়, এভাবে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চুরির পর সেগুলো ঢাকার বাইরে সরবরাহ করা হতো। গ্রেপ্তার রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা রয়েছে। রাব্বির বিরুদ্ধে রয়েছে ৭টি চুরির মামলা। এ ছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা এবং রাব্বির বিরুদ্ধে দুটি জিআর পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে।





