ঢাকার যেসব আসন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা

প্রতীকী ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ। রাজধানীর বেশ কয়েকটি আসনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হওয়ায় সেগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বও ঢাকার মাঠে আছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লড়ছেন ঢাকা-১৭ আসনে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আছেন ঢাকা-১২ আসনে।
দলীয় প্রধানদের অংশগ্রহণের বাইরে প্রচারণার সময় আরও কয়েকটি আসন বিশেষভাবে আলোচিত ছিল। এর মধ্যে ঢাকা-৮, ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১৪ উল্লেখযোগ্য। এসব আসনের প্রার্থীদের কার্যক্রম দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা-৮
প্রচারণার শুরু থেকেই এ আসন ছিল আলোচনায়। এখানে বিএনপি মনোনীত মির্জা আব্বাসের বিপরীতে লড়ছেন ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। ট্রাক প্রতীকে মডেল মেঘলা আলমসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী আছেন মাঠে।
শান্তিনগরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রচারণার সময় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বিএনপি প্রার্থীকে নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। জবাবে মির্জা আব্বাস ধৈর্য ও কৌশলের পরিচয় দিয়েছেন। স্থানীয় হিসেবে নানা কারণে তিনি এগিয়ে থাকবেন বলেও মনে করেন এই ভোটার।
ঢাকা-৯
সবুজবাগ, মতিঝিল, ডেমরা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনে প্রায় এক ডজন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে ঘিরে বেশি আলোচনা। অনেকের মতে, দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রচার হয়েছে এই আসনে।
বিএনপির হাবিবুর রশিদ হাবিবের মুখোমুখি স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া রাসিনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
ঢাকা-১১
এই আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. এমএ কাইয়ুম। শুরুতে প্রচারণা স্বাভাবিক থাকলেও শেষ দিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন নাহিদ ইসলাম।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ রিট খারিজ করেন। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে ড. কাইয়ুমের কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
ঢাকা-১৩
মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে এ আসনে একসঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নয় প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির ববি হাজ্জাজ, ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হক, বাসদের খালেকুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম ও সোহেল রানা।
স্থানীয়দের ধারণা, ধানের শীষ ও রিকশা প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে।
ঢাকা-১৪
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, যিনি গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
ভোটারদের কাছে দুজনই পরিচিত মুখ। সম্প্রতি গণভবনে নির্মাণাধীন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। জয়ী যিনিই হোন, তার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুজনই।
ঢাকা-১৫
ন্যায় ও ইনসাফের বার্তা নিয়ে দীর্ঘদিন প্রচারণা চালিয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তার মুখোমুখি বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
মিরপুর ও কাফরুল এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ঢাকা-১৭
উত্তর সিটির ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে রয়েছে অভিজাত এলাকা যেমন বারিধারা, ডিওএইচএস, নিকেতন; পাশাপাশি ভাসানটেক, কড়াইল ও মহাখালীর বস্তিও। বৈচিত্র্যময় এই ভোটার গঠন আসনটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।
মোট ১২ জন প্রার্থী থাকলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় এই আসন ঘিরে সারাদেশের নজর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, যিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।



