জলবায়ু সংকটে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমাতে আলোচনা সভা

সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ কীভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়ায়, তা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) ও ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, নারী-পুরুষের বৈষম্য ও মেয়েদের অধিকার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের আয় কমে গেলে মেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং তাদের ওপর পারিবারিক দায়িত্ব বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় মেয়েদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে তাদের ওপর সংসারের দায়িত্ব বাড়ে। এসব পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো চাপে পড়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
তিনি আরও বলেছেন, 'একটি ঝড় একটি পরিবারের জীবন এলোমেলো করে দিতে পারে। স্কুলঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোনো দুর্যোগই যেন একটি মেয়ের স্বপ্নপূরণ বা নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।'
অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম প্যানেলে সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শামীমা আক্তার। এতে অংশ নেন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (সি৩ইআর) উপপরিচালক রৌফা খানুম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট অনিতা গাজী রহমান, সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স রুমানা আহমেদ এবং জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট আফসানা চৌধুরী।
দ্বিতীয় প্যানেলে সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দ ফজলে নিয়াজ। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজ, বুরো বাংলাদেশের জেন্ডার অ্যান্ড ক্লাইমেট লিড ও হেড অব রিসার্চ মাইমুনা জাহরা ফারিহ, আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইসরাত করিম ইভ এবং গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের কান্ট্রি লিড ফারাহ আনজুম।
দুই প্যানেলের আলোচনায় দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেছেন, দুর্যোগের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সুযোগ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মেয়েদের সুরক্ষা জোরদার, শিক্ষা ও আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগ ও নিজেদের জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশের লিড মুনিরা আহমেদ ফিদাই বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মেয়েদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জরুরি সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করতে কাজ করে সংস্থাটি। অন্যদিকে, শিয়া ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ইসমাইলি সিভিক সমাজের উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অনুষ্ঠানটিতে জনসংযোগ সহযোগী হিসেবে ব্যাকপেজ পিআর এবং ডিজিটাল মিডিয়া সহযোগী হিসেবে দ্য নিউজ কমপ্রেস কাজ করেছে।



