কী জানি

অন্ধকার ঘর। ডিজিটাল ঘড়ি বলছে এখন ২০৬৪ সাল। ঘুম ভাঙল ভয়ংকর বিকট শব্দে। কী বিপদ! বিছানা থেকে উঠতেই চোখে পড়ল হুবহু নিজের মতো একজন। গলাফাটা চিৎকার করছে কানের কাছে দাঁড়িয়ে। ওঠো তাড়াতাড়ি! সিস্টেম আপডেট লাগবে! কল্পনা নয়, আজ থেকে বছর ত্রিশেক পর নাকি এটাই হবে মানুষের বর্তমান পৃথিবীর নতুন বাস্তবতা। অবিকল নিজের মতো আরেকজন ক্লোন মানব বানাবে সেই দুনিয়ার মানুষগুলো।
যাদের হালচাল, চলন-বলন-চেহারা সবই হবে মালিকের মতো। নাম হবে ‘জম্বি’ ক্লোন! তখনকার সবার সঙ্গেই নাকি থাকবে এমন এক সাথী। এমনই এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউএনএসডব্লিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক টোবি ওয়ালস। এ নিয়ে ২০২৪ সালে ‘লাইফ ইন ২০৬৪’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছে এবিসি নিউজ।
আকার-আকৃতি তো বটেই, চিন্তাভাবনা, কথা বলার ধাঁচ সব হবে একই রকম। ওয়ালসের বিশ্বাস, সামনের দুনিয়ায় নিজস্ব এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের জনপ্রিয়তা থাকবে অনেক। সবার থাকবে একটি জোড়া। ডিজিটাল জোড়া। ছায়ার মতো থাকবে পাশে পাশে। জরুরি কথা বলতে হবে ফোনে কিন্তু ইচ্ছা নেই? কোনো সমস্যা নেই। নিজের পোষা জম্বি বলবে সে কথা। দাপ্তরিক বা বাণিজ্যিক কাজ, কিংবা টেবিলের ওপর এক গাদা ফাইল; পকেটে বাজারের ফর্দ, এরই মধ্যে আবার খবর এলো যেতে হবে আত্মীয়ের বাড়ি! কোনো চিন্তা নেই। কাজ ভাগাভাগি করে নেবে ব্যক্তি ও তার ক্লোন। নিজের জন্য পছন্দের কাজটি রেখে বাকিগুলো সঙ্গী রোবটকে দিয়ে দিলেই খতম! নিমিষে সব কাজ একসঙ্গে শেষ। মাঝে মাঝে শুধু চার্জ দিতে হবে ক্লোন মানবেকে। আপডেট করতে হবে তার সফটওয়্যার।
কিন্তু এই ‘জম্বি’ পাশে থাকলে কে আসল কে নকল তা নিয়েও তৈরি হবে সংশয়! ভবিষ্যৎবিদ মার্ক পেসচের বিশ্বাস ২০৬৪ সালে এমন পরিস্থিতি হবে যে, সঠিক আর ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন না কেউ। চারদিকেই থাকবে তথ্য আর তথ্য। জোড়া আর জোড়া। একই দশা হবে মানুষেরও। হয়তো মানুষই হবে সবচেয়ে ‘ফেক’! নকল!




