শুভ জন্মদিন পাওলো কোয়েলহো

আন্দালুসিয়ার এক তরুণ মেষপালক সান্তিয়াগো। বারবার দেখা এক স্বপ্নের টানে সে ছেড়ে দেয় নিজের ভূমি, পাড়ি দেয় সুদূর মিসরীয় পিরামিডের পথে। পথে তার পরিচয় হয় রহস্যময় রাজা মেলকিজেদেকের সঙ্গে, যে শেখায় ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’ বা ব্যক্তিগত কিংবদন্তির কথা। পরে আলকেমি শিখতে চাওয়া এক ইংরেজ, ভালোবাসার মানুষ ফাতিমা এবং শেষে প্রকৃত আলকেমিস্ট— প্রত্যেকে তার জীবনে যোগ করে নতুন নতুন শিক্ষা। দ্য আলকেমিস্ট আমাদের শেখায় যে প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটি স্বপ্ন বা নিয়তি আছে, আর সেই স্বপ্নকে অনুসরণ করাই হলো প্রকৃত জীবনের পথ। সাহস, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও ধৈর্য— এসবই হলো জীবনের আসল দর্শন, যা সান্তিয়াগোর যাত্রার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কোয়েলহো। এ বইয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি— ‘যখন তুমি মন থেকে কিছু চাও, পুরো বিশ্ব সেই লক্ষ্যপূরণে তোমার সাহায্যে এগিয়ে আসে।’
এই ছোট কিন্তু দারুণ তাৎপর্যময় উক্তি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মহাবিশ্বের সঙ্গে আমরা এমনভাবে সম্পর্কিত যে আমাদের লক্ষ্যপূরণের পথে এমন এক শক্তি এগিয়ে আসতে পারে, যা আমরা হয়তো কখনো কল্পনাই করিনি। এই মহাকাব্যিক যাত্রাই এখন ঢাকার মঞ্চে ফুটিয়ে তুলবে অ্যাক্টোম্যানিয়া। নাট্যদলটির দলপ্রধান ও নির্দেশক তালহা জুবায়ের বললেন, “বর্তমান সময়ে ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড়ে মানুষ অনেক সময় নিজের স্বপ্ন ও জীবনের লক্ষ্য ভুলে যায়। ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ সেই স্বপ্ন ও আত্ম-অন্বেষণের কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।”
পাওলো কোয়েলহো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বেস্ট সেলিং লেখক। তার বই অনূদিত হয়েছে ৮০টির বেশি ভাষায়, বিক্রি হয়েছে ৩৫ কোটিরও বেশি কপি। ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে, এরপর থেকে এটি বিশ্ব জুড়ে কোটি পাঠকের হৃদয় ছুঁয়েছে। বাংলাদেশেও বইটির পাঠকপ্রিয়তা বিপুল। কোয়েলহোর লেখার শক্তি তার কাব্যিক অথচ সহজ-সরল ভাষায় গভীর জীবনদর্শনকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতায়। ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’-এর মতো ‘ব্রাইদা’, ‘ম্যানুয়াল অব দ্য ওয়ারিয়র অব লাইট’, ‘ম্যানুসক্রিপ্ট ফাউন্ড ইন আক্রা’র মতো বইগুলোয়ও তিনি জীবনের গভীর অর্থ, বিশ্বাস, ভালোবাসা আর আত্মশক্তির কথা বলেছেন।






