কী জানি

ছুটির দিনের সকাল। ঘুম থেকে উঠেই ইচ্ছা হলো নতুন পোশাক কেনার। অনলাইন কেনাকাটায় তেমন একটা বিশ্বাস নেই। আবার দোকানে যেতেও মন চাচ্ছে না। শহরের রাস্তায় যানজটের লম্বা সারি। শপিংমলে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই কেনাকাটার আগ্রহ অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ২০৩০ সালে দোকানে না গিয়েও যাচাই করা যাবে পোশাকের রঙ, মাপ ও মান। ভার্চুয়াল আয়নায় পরে দেখার পর পছন্দ হলে দেওয়া যাবে অর্ডার। আর দরজায় পৌঁছে যাবে কেনা পণ্য। কল্পবিজ্ঞান মনে হলেও ২০৩০ সালের কেনাকাটার জগৎ হতে পারে ঠিক এমনই। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কৌশল ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানি। তাদের ওয়েবসাইটে ‘অমনিচ্যানেল শপিং ইন ২০৩০’ শীর্ষক আলোচনায় উঠে এসেছে কেনাকাটার এমন এক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বাস্তব দোকানের অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে পারে আরও নিবিড়ভাবে। অনলাইন আর অফলাইন কেনাকাটা তখন আলাদা দুটি জগৎ নয়; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে একই অভিজ্ঞতার অংশ। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেনাকাটার এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। গ্রাহকের পছন্দ, কেনাকাটার অভ্যাস ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রযুক্তি দিতে পারবে পণ্য-সংক্রান্ত পরামর্শ। এ প্রযুক্তিটির নাম তারা দিয়েছে ‘ফিজিটাল’। অর্থাৎ ফিজিক্যাল ও ডিজিটালের মিশ্রণে নতুন এক প্রযুক্তি। এটিতে পোশাক কেনার আগে সুযোগ তৈরি হতে পারে ভার্চুয়ালি তা পরে দেখার। ফলে সহজ হতে পারে পছন্দ নির্ধারণ, কমতে পারে ভুল কেনাকাটার ঝুঁকিও। এ প্রযুক্তিতে ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে দোকানের ধারণাও। ২০৩০ সালে দোকান শুধু পণ্য কেনার জায়গা নয়; বরং হয়ে উঠতে পারে বিনোদন, নতুন অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত সেবার কেন্দ্র। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে থাকবে কিছু চ্যালেঞ্জও। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, গ্রাহকের আস্থা এবং অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা পেতে পারে গুরুত্ব। প্রযুক্তির সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।



