তবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভেজা জুতা, নৌকায় পরীক্ষা কেন্দ্রে যাত্রা, প্রশ্নে ভুল, আর শেষে শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য। সব মিলিয়ে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিলেন, ‘তুমি কে, আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি!’— এমন স্লোগান বাংলাদেশের শিক্ষা ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম।
শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তিও কম মজার নয়। তিনি বললেন, আগের দিন ডিসি, ইউএনও আর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, ‘বৃষ্টি হবে না’। কিন্তু প্রকৃতি বোধ হয় সরকারি ব্রিফিং শোনেনি। সে নিজের মতো করেই বৃষ্টি নামিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা কোথাও নৌকায়, কোথাও হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে, আবার কোথাও পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই পোশাক ভিজে একাকার। মন্ত্রী অবশ্য সংসদে দাবি করলেন, ‘সমস্যা হয়েছে মাত্র একটি কেন্দ্রে।’ কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো যেন অন্য গল্প বলছে। মনে হলো, দেশের মানুষ আর সরকারের আবহাওয়ার পূর্বাভাস যেন দুটি ভিন্ন গ্রহে বসবাস করছে। এর মধ্যে ভুল ধরা পড়েছে পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নেও। ঘোষণা এসেছে, ভুল প্রশ্নেরও পুরো নম্বর! অর্থাৎ এবার নতুন সূত্র: প্রশ্ন ভুল = নম্বর ফুল।
সব মিলিয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত হয়েছে— পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যার পাশাপাশি সাঁতার, নৌচালনা, জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাসে বিশ্বাসবিদ্যা। পরীক্ষার্থীদের দাবি তিনটি— পরীক্ষা স্থগিত, যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি তাদের আবার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তবে এ ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে: পরীক্ষার্থীরা কি সত্যিই শিক্ষার্থী, নাকি সরকারি ভাষায় ‘ফার্মের মুরগি?’ আমার মনে হয়, এবারের এইচএসসি সিলেবাসে নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে:
১. সাঁতার (ব্যবহারিক)
২. নৌকা চালনা (বোর্ড নির্ধারিত)
৩. জলাবদ্ধতায় দৌড় (মৌখিক)
৪. আবহাওয়া অফিসকে বিশ্বাস করার কৌশল (ঐচ্ছিক)
সবকিছুর পরেও সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত। যদি সব ঠিকই থাকে, তবে এত মানুষ ভিজল কীভাবে?




