অবহেলিত প্রবীণ আর এতিম শিশুদের মুখে স্বস্তির হাসি
- দহকুলায় ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

বক্তব্য রাখছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন। ছবি : আগামীর সময়
একপাশে সহায় সম্বলহীন এতিম শিশু। অন্যপাশে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ মানুষ। তাদের চোখেমুখে স্বস্তিতে বাঁচার স্বপ্ন। বুকে পরম মমতার আশা। অসহায় এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে কুষ্টিয়ার দহকুলা গ্রামে বসেছিল এক অনন্য মানবিক মেলবন্ধন।
শুক্রবার ২৪ জুলাই সকালে দহকূলার দারুল ইহসান এতিমখানা, মক্তব ও প্রবীণ নিবাস প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আবহ। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পায় শত মানুষ। দিনভর চলে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের প্রেসক্রিপশন ও বিনামূল্যে ওষুধ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘অসহায় মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে আমরা কাজ করছি।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক এই সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি সব সময় মেহনতি মানুষের পাশে ছিল। নির্বাচনি ৩১ দফায় সবার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এখন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নানা অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হচ্ছে।’ মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
এতিমখানা, মক্তব ও প্রবীণ নিবাস গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান জেলা পরিষদের প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর আবুল কালাম সাজাদ, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক টিপু সুলতান এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোজাককার রাব্বি।
প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মতিয়ার রহমান।
আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি মস্তান, প্রতিষ্ঠানে জমি দানকারী আওলাদ আলী এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের উপস্থিতিতে এতিম শিশু আর নিঃসঙ্গ বৃদ্ধদের হাসিমুখ দিনটিকে পরম অর্থবহ করে তোলে।




