হতেও পারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাল ২১০০। শহরের আকাশে মেঘের মধ্যে সুউচ্চ দালান। রাস্তায় শোঁ শোঁ করে চলেছে চালকবিহীন গাড়ি। প্রতিটি শহুরে মানুষের হাতে হালের উন্নত প্রযুক্তি। তবে ভবিষ্যৎ এই নগরীর অলিগলিতে মানুষের সমাগম সীমিত। নেই শহর নিয়ে অযাচিত কৌতূহল, উন্মাদনা। কারণ সবাই-ই ছোট, বড়, নতুন, পুরনো কোনো না কোনো শহরের বাসিন্দা। গ্রামীণ জনপদ বলে কিছু নেই। এমনই নাকি হবে ভবিষ্যতের লোকালয়। চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে গ্রাম। সব তখন শহর!
কোনো সায়েন্স ফিকশন শহরকেন্দ্রিক গল্প নয় এটি। বরং চলতি বছরের জুন মাসের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে অদূর ২১০০ সালের এই ভবিষ্যৎধর্মী চিত্র। আগামীর বিশ্বের মানুষ কোথায়, কীভাবে বসবাস করবে তা জানতেই যৌথভাবে গবেষণাটি করে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কমপ্লেক্সিটি সায়েন্স হাব এবং সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ বিশ্ববিদ্যালয়।
নতুন এই গবেষণায় বৈশ্বিক বিশ্লেষণ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বড় শহরগুলোর বিস্তার হয়তো অব্যাহত থাকবে, তবে তা বর্তমানের অনেক পূর্বাভাসের তুলনায় হবে ধীরগতিতে। কয়েক দশক ধরেই শহর নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, বড় শহরগুলো আরও বড় হবে, মেধা ও কর্মসংস্থানকে নিজের দিকে টেনে নেবে এবং ছোট এলাকাগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবধান ক্রমশ বাড়িয়ে চলবে। তবে এই নতুন গবেষণা বলছে, এই ধারার থাকতে পারে একটি সময়সীমা বা সমাপ্তি। আর সেই সময়টিই মনে হয় নির্ধারণ করে দেবে, আগামী শতাব্দীর জন্য বিশ্ব কীভাবে পরিকল্পনা সাজাবে। ভবিষ্যতে প্রতিটি দেশের উন্নয়ন এবং নগরায়ণে কমে আসবে ‘মেগাসিটি’র বৃদ্ধি ও প্রভাব। এ বিষয়ে গবেষকদের ধারণা, ২১০০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করবে শহরে। এটি নিঃসন্দেহে এক অত্যন্ত নগরায়ণনির্ভর ভবিষ্যতের পূর্বাভাস। তবে শহরকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলো ক্রমে কমে আসায় ভবিষ্যতে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা বর্তমানে শহর নিয়ে সব অনুমানের চেয়ে অনেক কম। গবেষণার ফল অনুযায়ী, শতাব্দীর শেষ নাগাদ ১০ লক্ষাধিক বাসিন্দার শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৫ কোটি কম হবে। বিষয়টিকে নগরজীবনের একটি চক্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে শুরুর দিকে বড় শহরগুলো দ্রুত এগিয়ে যায়। তবে পরে সেই বাড়তি সুবিধা আর থাকে না এবং বিভিন্ন আকারের শহরগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি আরও ছড়িয়ে পড়ে।





