কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে নজর দিলে মনে হয়, এ গ্রহের সবকিছুই বুঝি অনেক আগেই আবিষ্কার হয়ে গেছে। প্রতিটি দেশ, নদী, পাহাড়— সবই যেন পরিচিত। অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অংশ সাগর-মহাসাগরের কত কিছু অজানা মানুষের। সমুদ্রের গভীরে থাকা জলজপ্রাণী বা তার তলদেশ নিয়ে মানবজাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার নিতান্তই সীমিত! বিজ্ঞানীরা চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহের নকশা তৈরি করলেও নিজের গ্রহের সমুদ্রতলের মানচিত্রই এখনো সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তবে শিগগিরই সে অপূর্ণতা কাটিয়ে উঠছে বিশ্ব। আর মাত্র চার বছর! সমুদ্র দেশের সব উত্তর খুঁজতে ‘সিবেড ২০৩০’ প্রকল্পটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন আর জিইবিসিওর এ প্রকল্পটিকে জাতিসংঘের একটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরির এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প বিশ্বকে সুনামি প্রস্তুতির আগাম পথ দেখাবে। একই সঙ্গে সহায়তা করবে সামুদ্রিক আবাসস্থল রক্ষা ও গভীর সমুদ্রের খনিজ আহরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে। সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে জানতে এ প্রকল্প শুরু হয় ২০১৭ সালে। সে সময় মহাসাগরের মাত্র ৬ শতাংশ এলাকার মানচিত্র নির্ভুল ও বিস্তারিতভাবে তৈরি করা ছিল। পরে ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি সমুদ্রতলের এক-পঞ্চমাংশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তাদের এ কাজটি মোটেও সহজ হয়। তলদেশ অন্ধকার হওয়ায় এবং সেখানে আলোর রশ্মি বেশি দূর পর্যন্ত যেতে না পারাই বিজ্ঞানীদের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ছবি তোলা অনেকটাই অসম্ভব। কাজ কিছুটা সহজ করতে জাহাজে বসানো বিশেষ মাল্টি বিম সোনার ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীর। কিন্তু এরপরও অনেক ছবি থেকে যায় ঝাপসা। এত পরিশ্রম করে সমুদ্রের তলদেশ নিয়ে জানার কী দরকার— প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। ‘সিবেড ২০৩০’ শুধু একটি উচ্চ বাজেটের প্রকল্পই নয়; এটি জাপানের মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সুনামি ও টাইফুন মোকাবিলার প্রস্তুতি উন্নত করার পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক দাবিগুলোকে স্পষ্ট করে তুলবে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পৃথিবীর বহু দেশের জন্য উপকারী হবে সমুদ্রের তলদেশের এ মানচিত্র।






