ডাইনোসর নিয়ে আমাদের কল্পনার রোলারকোস্টার
- ধারণা করা হয়, ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়েছে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে

সংগৃহীত ছবি
ডাইনোসরের গল্প আমাদের মনে একই সঙ্গে জন্ম দেয় ভীতি এবং মুগ্ধতার। কিন্তু ভাবুন তো, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ডাইনোসরদের প্রচলিত এ আখ্যান দুঃখজনকও নয় কি?
প্রাগৈতিহাসিক এ প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যায় প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে। বর্তমানে অনলাইনে স্মরণ করা হচ্ছে তাদের। ডাইনোসরের গণবিলুপ্তির জন্য শোক প্রকাশ করছেন ডাইনোসরপ্রেমী নেটিজেনরা।
অনেক ডাইনো ভক্তরা কেটে নিচ্ছেন অ্যানিমেটেড ফুটেজ। সেখানে দেখা যাচ্ছে ডাইনোসরের সদ্যোজাত শাবকের খেলা করার দৃশ্য কিংবা লম্বা গলাওয়ালা তৃণভোজী ডাইনোসরদের প্রণয় খুনসুটি।
সম্প্রতি পোস্ট করা অ্যানিমেটেড ফুটেজগুলো বেশিরভাগই সাম্প্রতিক নেটফ্লিক্স ডকুসিরিজ ‘দ্য ডাইনোসরাস’ থেকে নেওয়া হয়েছে। পোস্ট করার আগে ফুটেজের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বিষণ্ণ সঙ্গীত আর মন খারাপ করা সুর।
একজন দর্শক সেই টিকটক ভিডিওটিতে আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘এই পৃথিবীটা তো তাদেরই হওয়ার কথা ছিল।’
আরেকজন টিকটকার মন্তব্য করেছেন, ডাইনোসররা জানে না যে, ‘আমরা, মানুষেরা তাদের খুঁজে পেয়েছি এবং অনুরাগীরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে তাদের ভালোবাসছি।’
আবার কিছু টিকটক ব্যবহারকারীর প্রশ্ন, যে প্রাণীদের তারা কখনও চিনতেই পারেনি, দেখেওনি, তাদের অভাব তারা কীভাবে অনুভব করতে পারে!
কিন্তু ডাইনোসরের গল্পের সঙ্গে মানুষের অনুভূতির দীর্ঘদিনের সংযোগ রয়েছে। রয়েছে নিজেদের অনুভূতি ঢুকিয়ে দেওয়ার এক দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
বিলুপ্ত বিশালকায় এই প্রাণী কখনও আমাদের কল্পনায় অ্যানিমেটেড সিনেমার খলনায়ক হয়েছে, কখনওবা হয়েছে ছোটবেলার পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত সঙ্গী। আবার বিভিন্ন সময়ে সিনেমার দৃশ্যে হয়েছে মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানকারী পরম বন্ধু। তারা ব্যবহৃত হয়েছে পোষা প্রাণী হিসেবেও।
ছোট্ট বাচ্চারা তাদের সম্পর্কে বড় বড় তথ্য মুখস্থ করে। ধনীরা তাদের হাড় কিনতে বিনিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা। হলিউডের সিনেমায় তাদের উপস্থিতি যেন থামতেই চায় না।
তারই সূত্র ধরে ডাইনোসরদের বড় পর্দায় দেখা যাবে অতি শিগগির আবার। অ্যান হ্যাথওয়ে এবং ইউয়ান ম্যাকগ্রেগর অভিনীত একটি মিস্ট্রি ফিল্মে আবার মানুষের মধ্যে বিচরণ করবে ডাইনোরা।
আগে একসময় গবেষণা আমাদের বলেছে যে, ডাইনোসররা ছিল বোকা প্রকৃতির অনুভূতিহীন প্রাণী। মজা করে বলা হতো, এতো বড় প্রাণীর মস্তিষ্কের আকৃতি ছিল মটরের সমান। মানবজাতি ডাইনোসরের বিলুপ্তিকে একপ্রকার বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবেই ধরে নিয়েছিল।
কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে আমাদের ধারণা পাল্টে গেছে। ডাইনোসররা ধীর আর বোকা ছিল বলেই বিলুপ্ত হয়েছিল, এই ধারণাটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে তখন।
বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে পাওয়া জীবাশ্ম ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, তাদের বিপাকক্রিয়া ছিল এখনকার অনেক উন্নত প্রাণীর থেকেও ভালো।
অনেক পেলিএন্টোলজিস্টের মতে, ডাইনোসরদের আচরণ ছিল পরিশীলিত আর বাস্তবধর্মী।
ভূতাত্ত্বিক নানা প্রমাণ থেকে বোঝা যাচ্ছিল যে, তারা কোনো বিবর্তনীয় ঘাটতির কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। বরং একটি আকস্মিক গ্রহাণুর আঘাতে দুর্ঘটনাবশত বিলুপ্তি ঘটে তাদের।
আর আকস্মিক মহাজাগতিক ওই দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু পৃথিবীর জন্য এক অকল্পনীয় ক্ষতিই বটে!
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কী হবে যদি মানুষও পৃথিবীর উপর থেকে তাদের আধিপত্য হারিয়ে ফেলে? কী হবে যদি, আমাদের বিলুপ্তির ক্ষেত্রে, কোনো বাহ্যিক দুর্ঘটনা নয়, বরং দায়ী থাকি আমরা নিজেরাই?
নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে হলিউডে ‘ডাইনোসরস’ নামক একটি সিটকম (সিচুয়েশনাল কমেডি) শুরু হয়। এক শ্রমজীবী পরিবারকে ঘিরে শিশুদের উপযোগী অনুষ্ঠান হিসেবে শুরু হয়েছিল এই সিটকমটি। যেখানে দেখা যায়, ডাইনোসররা মানুষের মতো আচরণ করছে।
গল্পের শেষে দেখা যায়, প্রযুক্তির অতিরিক্ত বিকাশের ফলে সৃষ্ট গোলযোগে চরিত্রগুলোর মৃত্যু হয়। ঠিক সেই পর্যায়েই গল্পের ইতি টানা হয়।
অনেক সমালোচকের মতে, নব্বই দশকের এই সিটকমটি ছিল ডাইনোসরদের নতুন ভূমিকার এক স্পষ্ট কিন্তু দূরদর্শী চিত্রায়ন। যা এমন এক সময়ে শুরু হয়, যখন মানুষের মধ্যেও ধীরে ধীরে এক্সটিংশন এংজাইটি কাজ করতে শুরু করেছে। ঠিক তখন থেকেই মানুষের কাছেও মনে হতে শুরু করেছিল যেন তারা নিজেরাই এক ধীরগতির মহাপ্রলয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ ওই সময়টাতে দুইদিন পরপরই কোনো না কোনো গবেষক দল থেকে ঘোষণা আসত যে, পৃথিবী হয়তো ধ্বংস হতে চলেছে। এই এক্সটিংশন এংজাইটিকে বিলুপ্তির উদ্বেগও বলা যেতে পারে।
কিংস কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞান-ইতিহাসবিদ ক্রিস ম্যানিয়াসের মতে, ডাইনোসর টিকে ছিল দীর্ঘকাল। অত্যন্ত সফল এবং বৈচিত্র্যময় ছিল, কিন্তু এখন তাদের উত্তরসূরী হিসেবে টিকে রয়েছে কেবল পাখি।
ক্রিস জীবাশ্মবিজ্ঞান নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। তার ভাষ্যমতে, ডাইনোসররা এই অনুভূতি জাগিয়ে তোলে যে, এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নাটকীয় প্রাণীরও বিলুপ্তি ঘটে। সবচেয়ে অসাধারণ সময়গুলোও শেষ হয়ে যায়। এই বার্তা ইঙ্গিত দেয় যে, সমাপ্তিই পরম সত্য।
কেন আমরা ডাইনোসরদের ভয় পাই, সম্মান করি এবং তাদের জন্য শোক করি
ম্যানিয়াস বলেছেন, মানুষ দীর্ঘকাল ধরে ডাইনোসরদের ভালোবাসে। কারণ ডাইনোসরের অস্তিত্ব কল্পকাহিনীর মতো। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কল্পকাহিনীর চেয়েও অদ্ভুত বলে মনে হয়।
খ্রিস্টপূর্ব যুগের মানুষেরা ডাইনোসরের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত। যদিও ডাইনোসরদের দানবীয় হাড়গুলো ঠিক কী দিয়ে তৈরি তারা ঠিক বুঝতে পারত না। এই হাড়গুলো দিয়ে তারা ঠিক কী-ইবা করবে তা আদিম মানুষরা জানত না।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিকি কুলস বলেছেন, উনিশ শতকে জীবাশ্ম-বিজ্ঞান আসার পর চিত্র পাল্টে যায়। বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল টিকটিকির মতো দেখতে প্রাণীগুলোকে ডাইনোসর বলতে শুরু করেন।
ভিকি ডাইনোসর কীভাবে দৃশ্যমান প্রতীকে পরিণত হলো তা নিয়ে গবেষণা করেন।
গবেষক কুলসের মতে, আমরা যে একই গ্রহে বাস করতাম, এই ধারণাটি সেই সময়ের মানুষকে হতবাক করে দিয়েছিল।
১৮০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ ভাস্কর বেঞ্জামিন ওয়াটারহাউস হকিন্স জীবাশ্ম এবং খণ্ডাংশের উপর ভিত্তি করে ডাইনোসরের বিশাল মডেল তৈরি করতে শুরু করেন। যদিও সেগুলো এখনকার পাওয়া দানবীয় জীবাশ্মগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল। ভাস্কর্য গুলো দেখতে ছিল, বুকে ভর দিয়ে হাঁটা সরীসৃপদের সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।
কুলস বলছেন, বাস্তব জীবাশ্ম গুলোর উচ্চতা এবং বিশালতা দর্শকদের ভয় ও রোমাঞ্চ দুটোই দিতে সক্ষম। মিউজিয়ামে রাখা জীবাশ্মের এসব দৃশ্য ডাইনোসরকে জনসাধারণের কল্পনায় একটি স্থায়ী স্থান করে দিতে সক্ষম হয়েছে।মূলত, সেই কল্পনা মানুষ ও ডাইনোসরের কাল্পনিক সহাবস্থানের পথকে সহজ করে দিয়েছিল।
১৮৬৪ সালে, জুল ভার্নের ‘জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ’ বইটিতে কল্পনা করা হয়েছিল যে অভিযাত্রীরা মাটির নিচে বসবাসকারী ডাইনোসরের মতো একরকম প্রাণী খুঁজে পেয়েছে।
তার ঠিক ১০০ বছরেরও কম সময় পরে, প্রস্তর যুগের আবহকে কেন্দ্র করে তৈরি করা অ্যানিমেটেড কার্টুন সিরিজ ফ্লিন্টস্টোন-এ দেখা যায় যে, ফ্লিনস্টোনরা বন্ধুত্বপূর্ণ ডাইনোসরকে তাদের পোষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।
কিন্তু ডাইনোসরদের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৯৯৩ সালে ‘জুরাসিক পার্ক’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির মাধ্যমে।
ম্যানিয়াস আরও জানান, স্টিভেন স্পিলবার্গের এই থ্রিলারটি ডাইনোসরদের সামাজিক প্রাণী হিসেবে চিত্রিত করেছে, যা পৃথিবীতে আদিম জীবন সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনা অনেকাংশেই বদলে দিয়েছে। হলিউডের সেই সিনেমা ফ্রেঞ্চাইসিতে ডাইনোসররা ওয়াটারহাউস হকিন্সের সেই ধীরগতির, বুদ্ধিহীন টিকটিকি ছিল না। তারা আর সেই নিরীহ প্রাণী ছিল না যারা, বিবর্তিত হতে না পারার কারণে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
স্পিলবার্গের ডাইনোসররা ছিল চালাক এবং ক্ষিপ্র। খেলার ছলে মানুষ শিকার করতে দেখা যায় তাদের।
স্পিলবার্গের দৃষ্টিভঙ্গি প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাণীদের জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শিকারী ডাইনোসর ভেলোসিরাপ্টরকে বক্স-অফিসের তারকাখ্যাতি এনে দেয় এই সিনেমা। এই পরিচালকই প্রথম বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত ডাইনোসরের ফুটেজ তৈরিতে শক্তিশালী সিজিআইয়ের ব্যবহার করেন।
যে দাঁতওয়ালা টি. রেক্স একসময় আতঙ্ক সৃষ্টি করত তা এখন আর আতংকের সৃষ্টি করে না। কিন্তু আজকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সময়ে দাঁড়িয়ে টিকটকে ফুটেজ কেটে পোস্ট করা ডাইনোসর প্রেমীরা সেই প্রাগৈতিহাসিক শিকারী জন্তুটির সঙ্গে একাত্মতা বোধ করছেন বলে মনে হয়।
ম্যানিয়াস জানান, ‘আমরা যদি একটি বৈশ্বিক বহু-সংকটের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঁচে আছি। এখানে দাঁড়িয়ে বহু যুগ আগের সেইসব প্রাণীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা আমদের মনেও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে সাহায্য করে। ডাইনোসররা তাদের ইতিহাস জুড়ে ধারাবাহিক বড় বড় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। যেমন, ব্যাপক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং সবশেষে একটি বিধ্বংসী গ্রহাণুর আঘাত। গবেষণায় পর্যায়ক্রমে পাওয়া এই সব তথ্যই আমাদের বর্তমান বিশ্বকে একটি সঠিক দৃষ্টিকোণ দিতে সাহায্য করে।’ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিকি কুলসের মতে, জেন-জেডদের মধ্যে ডাইনোসরদের প্রতি সহানুভূতির যে জোয়ার দেখা যায়, তা হয়তো একটি হারিয়ে যাওয়া জগতের জন্য অনুশোচনার অনুভূতি থেকে উৎসারিত। মজার ব্যাপার হলো পরোক্ষভাবে এই সহানুভূতি আমদের মনকে অন্য ভাবনার সাথেও সংযুক্ত করে। আমরা জানি তারা শত শত মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীর প্রভাবশালী জীব হিসেবে টিকে ছিল। তবুও তারা একসময় বিলুপ্ত হয়ে গেল।
‘আমরা মাত্র কয়েক হাজার বছর ধরে এই গ্রহে আছি। অন্যান্য বিপন্ন অনুভূতির সঙ্গে এই ভাবনাটি আমদের শ্রেষ্ঠত্বের ভাবনা বেশ নড়বড়ে করে দেয়। আমরা বুঝতে পারি যে, মানুষই বিশ্বের প্রকৃত অধিপতি নয়। ডাইনোসররাও একই রকম পরিস্থিতিতে ছিল, এবং তারা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমরা এখনও ডাইনোসরের টিকে থাকা বংশধর পাখিদের সঙ্গে একই গ্রহে বাস করছি। পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে বিচরণ রয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ চলচ্চিত্রের পরামর্শদাতা স্টিফেন ব্রুসাটে বলেছেন, সম্ভবত ডাইনোসরদের ইতিহাস আমাদের আশাবাদী করে তুলে। যদিও আমরা ডাইনোসরকে বিলুপ্তির সমার্থক বলে মনে করতে পারি, প্রকৃতপক্ষে তারা টিকে থাকার ক্ষেত্রে ছিল অসাধারাণ।
ব্রুসাটের মতে, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আজ পর্যন্ত প্রাণীর টিকে থাকার গতিপথ প্রকৃতির সাথে মানিয়ে চলা ও সহনশীল হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে।
সিএনএন থেকে অনূদিত















