বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অস্ট্রেলিয়া। ওশেনিয়ার এ রাষ্ট্রের রয়েছে হাজার পরিচয়। বিচিত্র পশুপাখির ঘর। বিখ্যাত অভিনেতা, অভিনেত্রীর জন্মস্থান। অনেকেই আবার চেনেন তার সুন্দর পাহাড়ি দৃশ্য, সমুদ্রসৈকত আর বিখ্যাত সিডনি ওপেরা হাউজের জন্য। সাপ, ক্যাঙারু, কোয়ালার দেশ হিসেবেও কম পরিচিত নয়। তবে ২০৫০ সালে এসবের একটাও লাগবে না অস্ট্রেলিয়াকে চিনতে। গোটা বিশ্ব তখন এ রাষ্ট্রকে ডাকবে ড্রোনের দেশ বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির দেশ হিসেবে। সিডনির সায়েন্সভিত্তিক ওয়েবসাইট কিডস নিউজের এক প্রতিবেদনে ২০১৭ সালেই সে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন দেশটির ভবিষ্যৎবিদ ড. ক্রিস রিডেল।
আগামীর বিশ্ব নিয়ে আলোচনা করা বাকি অনেক ভবিষ্যৎবিদের সঙ্গে একমত রিডেল। তিনিও মনে করেন, ভবিষ্যতের দুনিয়ায় থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নানা প্রযুক্তির উদ্ভাবন। আর এ আবিষ্কারের অন্তর্ভুক্ত থাকবে অস্ট্রেলিয়াও। সেখানে ব্যবসা বা চাকরিতে মানুষ একা কাজ করবে না। তার পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে ভবিষ্যৎ কম্পিউটার। রিডেলের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আসবে যানবাহনে। বর্তমানে ধীরে ধীরে রাস্তায় নামছে চালকবিহীন গাড়ি। ২৪ বছর পর এরকম রোবট গাড়ি দিয়ে ভরে যাবে অস্ট্রেলিয়ার সব রাস্তা। তার মতে, যারা নিজের গাড়ি নিজে চালাতে চাইবে, তাদের এই আনন্দের জন্য দিতে হবে বাড়তি ফি। সঙ্গে ২০৫০ সালে সবার থাকবে নিজের একটি করে ড্রোন। গাড়ি ও ড্রোনের সংমিশ্রণে নতুন এক যানবাহন উড়বে অস্ট্রেলিয়ার আকাশে। তার ভাষ্য, ‘শেষ পর্যন্ত আপনি যা দেখবেন, তা হলো এই দুইয়ের একীভূত হওয়া। আপনি তখন আর গাড়ি আর ড্রোনকে আলাদা করতে পারবেন না।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মতো আশার আলো নেয় দেশটির পরিবেশ নিয়ে। ২০৫০ সালে এ দেশের জনসংখ্যা পৌঁছাতে পারে ৪০ মিলিয়নে। এত মানুষকে ঠাঁই দিতে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশটির উপকূলের শহর ও পরিবেশ। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আয়ান লোয়ি সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবেশ রক্ষায় তাদের এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, আমরা উদ্বেগজনকহারে জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা আমরা জানি না। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ এবং বিভিন্ন আইনে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব বলেও মত তার।




