নির্বাচিত কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমার চক্রবর্তী
পুলসিরাত
চুলের চেয়েও সরু আর তরবারির
চেয়েও ধারালো
সেই পথ..., আদিগন্তহীন; যার ওপর দিয়ে
হররোজ
আমি তোমার কাছে পৌঁছে যেতে
চাইতাম,
আগুনের ঝাপটা আর আলোকিত অন্ধকার
নিয়ে
পুনরায় তোমাকে নিতেই যেন বুঝি, জীবন
হলো যে এক
প্রেমসেতু, ঝুলে আছে জানা
অজানায়?
অভ্রনীল আবির
যে কষ্টের কোনো জানালা নেই
ঝরে-পড়া পাতারা জানে— গাছ থেকে আলাদা হওয়ার শব্দ কখনো বাতাসের চেয়েও নীরব।
তাই তাদের হলুদ শরীরে যে ক্ষয়ের অক্ষর লেখা থাকে, তা পড়তে শেখেনি কেউ।
আমার ভেতরেও তেমন কিছু ঋতু
প্রতিদিন ঝরে যায়— কোনো
শব্দ না করে, কোনো
বিদায়ের আয়োজন ছাড়াই।
হঠাৎ বৃষ্টি নামে। ভেজা মাটির বুক থেকে উঠে আসে এক পুরোনো ঘ্রাণ— মনে হয়, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা
কোনো অসমাপ্ত বিকেল আজও নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
মন তখন নিজেকেই ছুঁয়ে
দেখে, যেমন অন্ধকার ঘরে
হাত বাড়িয়ে কেউ খোঁজে দেয়ালের
পুরোনো ফাটল—
আঙুলে ব্যথা লাগে, তবু আলো জ্বালানো হয় না। সময়গুলোও আজকাল ঘড়ির কাঁটায় হাঁটে না, ছেঁড়া সুতোয় ঝুলে থাকা
কিছু
ঘুড়ির মতো এদিক-ওদিক
দুলতে থাকে।
আর কিছু মানুষ— মানুষের মুখ পরে থাকা অচেনা ঋতুর মতো— তাদের হাতে রেখে যায় আমাদের সবচেয়ে নরম স্বপ্নগুলো।
তারপরও
রাত নামে, জানালায় বৃষ্টিরা নিজেদের নাম মুছে মুছে
লেখে।
আমি শুধু বসে থাকি— বুকের ভেতর একটা বন্ধ ঘর, যার দরজায় কোনো তালা নেই, শুধু খোলার মতো কেউ নেই।
অসীম বিভাকর
অদম্য
অবরুদ্ধ জানালার আক্ষেপগুলো
খানিক গিয়েছে মিশে ম্রিয়মাণ স্রোতে;
হারিয়ে যাওয়া পালকের কথা জানা নেই।
সকাল চেয়েছে উড়তে ঠিক ঈগলের মতো,
চেয়ে দেখি তার ডানা নেই।
ঢাকতে চেয়েছে পাটাতন যেই চাদরে
সেই চাদরের সুতো গেছে প্রায় খুলে।
যেই শাস্ত্রে চাষি সাজাতে চেয়েছে বীজতলা
গলদ জমেছে সেই শাস্ত্রের মূলে।
তবুও কিশোর লাটাই হাতে মাঠে
ঘুড়ির শরীরে পরায় রঙিন জামা।
বিকেল যতই ছড়াক বিরূপ আভা
পথে যে নেমেছে তার তো সাজে না থামা।
শাহান সাহাবুদ্দিন
শিল্পীর দায়
শিল্পিত উচ্চারণে মুগ্ধ করতে আসিনি তোমাদের
অলংকার আর চিত্রকল্পে আড়াল করতে চাইনি
প্রকৃত দৃশ্যপট, আকণ্ঠ হেমলকের রসপানে
দীর্ণ নিপাট শিল্পী আমি
বুকের রক্তে খুন ঢেলে হয়ে উঠেছি স্বীকৃতিহীন অনন্য মানুষ।
না সক্রেটিস না যিশু না ডারউইন;
মহাকাল, অসামান্য শিক্ষকের স্বীকৃতি— তোমাকে দিলাম।
ছুটি দাও, ঘুমোতে যাব এবার!
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
সত্যপাখি
যিশু বলেই কি ক্রুশবিদ্ধ হতে হয়?
হেমলক নিয়ে বসে আছি।
গভীর শোকের মাতম জেনে
বেজে উঠছে রক্তিম কনসার্ট
হত্যার প্রকাশ্য উৎসবে
কীভাবে শ্বাস নেবে সক্রেটিস?
মৃত্যু যিশুকে মারতে পারে না
হেমলকও নেভাতে পারে না আলো
যিশুর শরীর জুড়ে
হাজার বছর সত্যপাখি ওড়ে।



