তরমুজ থেকে সাবধান!

তরমুজ
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে আর শরীর ঠান্ডা রাখতে জুড়ি নেই তরমুজের। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল যেমন উপকারী, তেমনি হজমেও বেশ হালকা। ২০২৪ সালে ফুড বায়োসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, পুষ্টিকর তরমুজ পরিবেশন সাহায্য করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু অনেকের অভিযোগ, তরমুজ খেলেই পেট ফুলে যায়, বিশেষ করে যদি খাওয়া হয় ভরা পেটে। তাহলে সমস্যাটি আসলে তরমুজে, নাকি খাওয়ার সময়ে।
ভারতে প্রতিবছর তরমুজ খাওয়া হয় প্রায় ৩৩ লাখ টন। প্রতিবছর ৩ শতাংশ করে বাড়ছে এই হার। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর তথ্য বলছে, তাপমাত্রা যত বাড়বে, তরমুজ খাওয়া তত বাড়বে।
কিন্তু গরমে বেশি তরমুজ খেলে কি পেট ফোলা ভাব আরও বাড়ে? সবার কি একই সমস্যা হয়? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
গরমে পেট ফাঁপার কারণ
অতিরিক্ত গরমে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গতি কমিয়ে দেয় হজমের। এ সময় অনেকে পানি কম খান। ফলে দেখা দেয় পানিশূন্যতাও। এতে অন্ত্রের গতি কমে যায়, এনজাইমের কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং পেটে বাড়ে গ্যাস। গ্রীষ্মে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসও পেট ফাঁপার ঝুঁকি বাড়ায়।
সঠিক উপায় হলো শুধু পানি নয়, জলীয় খাবার ও সুষম খাবার মিলিয়ে হোলিস্টিক হাইড্রেশন বা শরীরকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণভাবে পানিসম্পন্ন রাখা।গুরুগ্রামের সিকে বিড়লা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান কনসালট্যান্ট ডা. অনুকল্প প্রকাশের মতে, তরমুজে ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকায় এটি সাধারণত সহজে হজম হয়। তবে ভারী বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পর খেলে এটি পাকস্থলীর খালি হওয়ার প্রভাব ফেলতে পারে প্রক্রিয়ায়। একই সঙ্গে পেটে ভারী ভাব বা তৈরি করতে পারে ফাঁপা ভাব।
তিনি বলেছেন, তরমুজে ফ্রুক্টোজ (প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া মিষ্টি শর্করা) বেশি থাকে, যা উচ্চ ফোডম্যাপ বা অন্ত্রে সহজে হজমে খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। যাদের অন্ত্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি ও ফ্রুক্টোজ হজমে সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ফ্রুক্টোজ অন্ত্রে গ্যাস তৈরি করে পেট ফাঁপা ও সৃষ্টি করতে পারে অস্বস্তি।
কেন ভরা পেটে তরমুজ খেলে সমস্যা হয়
তরমুজ দ্রুত হজম হয়, কিন্তু ধীরে হজম হয় ভারী খাবার। এ দুই ধরনের খাবার একসঙ্গে খেলে অসামঞ্জস্য তৈরি হয় হজম প্রক্রিয়ায়। ফলে খাবার পাকস্থলীতে বেশি সময় থাকে, ফারমেন্টেশন বাড়ে এবং গ্যাস জমে ফেঁপে যায় পেট।
বিশেষ করে যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা হজমের অন্যান্য সমস্যা থাকলে থাকতে হবে সতর্ক।
যাদের হজম ক্ষমতা দুর্বল, তারা খাবারের পরপরই এড়িয়ে চলুন তরমুজ।
এতে সমস্যা হতে পারে অ্যাসিডিটি প্রবণতাযুক্ত ব্যক্তিদেরও।
যাদের জন্য তরমুজ ক্ষতিকর নয়
তরমুজ সবার জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং এটি শরীরের জন্য উপকারী। তবে সমস্যা নির্ভর করে কিছু বিষয়ের ওপর। তা হলো— পরিমাণে বেশি খেলে হতে পারে সমস্যা। ভারী খাবারের পর খেলে সমস্যা হয় হজমে। অনেকেই ঠিক পদ্ধতিতে উপযুক্ত পরিমাণে তরমুজ খেলে কোনো অসুবিধা বোধ করেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের মাঝে বা আলাদা করে তরমুজ খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের সঙ্গে বা পরপর খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
কারা সতর্ক থাকবেন
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম রোগী
দীর্ঘদিনের পেট ফাঁপার সমস্যা আছে যাদের
অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভোগেন
সংবেদনশীল হজমশক্তি যাদের
কীভাবে তরমুজ খেলে পেট ফাঁপা এড়ানো যায়
পরিমিত পরিমাণে খান
খাবারের সঙ্গে না খেয়ে আলাদা করে খান
দুধ বা ভাজা খাবারের সঙ্গে না মেশান
খুব ঠান্ডা অবস্থায় না খেয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় খান
ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন
ডা. অনুকল্প প্রকাশ বলেছেন, তরমুজ শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। তবে ভারী খাবারের সঙ্গে খেলে এটি সাময়িকভাবে হজম এনজাইমকে দুর্বল করতে পারে। ফলে অস্বস্তি অনুভূত হয়।
তিনি পরামর্শ দেন, যদি নিয়মিত পেট ফাঁপা, ব্যথা বা মলত্যাগের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তবে শুধু খাবারকে দায়ী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : এনডিটিভি





