গ্রীষ্মে পানিশূন্যতা যেভাবে প্রভাব ফেলে হজম, ত্বক ও মস্তিষ্কে

সংগৃহীত ছবি
তীব্র গরম আর অসহনীয় তাপপ্রবাহের কবলে এখন দেশ পুড়ছে বলে মানুষের মধ্যে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আমরা অনেক সময় পানিশূন্যতাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করলেও এটি আসলে শরীরের হজমশক্তি, ত্বক এবং মস্তিষ্কের বারোটা বাজায় নিঃশব্দে। শরীরে পানির সামান্য অভাবও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে রোগীরা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তাদের অসুস্থতার আসল মূল কারণটি হলো অপর্যাপ্ত পানি পান।
হজম প্রক্রিয়ায় পানি এক জাদুর মতো কাজ করে কারণ এটি খাবার ভাঙতে আর পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে সরাসরি। শরীর যখন পানিশূন্যতায় ভোগে, তখন মলাশয় পানির অভাব মেটাতে বর্জ্য থেকে সবটুকু রস শুষে নেয় বলে মল শক্ত হয়ে যায় আর দেখা দেয় কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো যন্ত্রণা।
শুধু তাই না, শরীরে পানি কম থাকলে লালা উৎপাদন কমে যায় বলে পেটে এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে বুক জ্বালাপোড়া আর পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় মানুষ ভোগে সারাক্ষণ।
ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর পানিশূন্যতার প্রভাব পড়ে সবচাইতে আগে যা কোনো নামী-দামী ময়েশ্চারাইজার দিয়েও পুরোপুরি সারানো সম্ভব না। পানির অভাবে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায় আর অকালে বলিরেখা পড়ে চামড়া হয়ে যায় খসখসে ও ঢিলেঢালা।
রোদের তাপে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায় বলে ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া কিংবা ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোও দেখা দেয় প্রকটভাবে।
মস্তিষ্ক পানির সামান্য হেরফেরও একদম সহ্য করতে পারে না বলে শরীরে মাত্র এক-দুই শতাংশ পানিশূন্যতা দেখা দিলেই মনোযোগ আর স্মৃতিশক্তিতে শুরু হয় গোলমাল। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি আর মেজাজ খিটখিটে হওয়ার পাশাপাশি ব্রেইন ফগ বা মাথায় ঝিমঝিম করার মতো অস্বস্তি তৈরি হয় অনেকেরই।
রক্তে পানির পরিমাণ কমে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না বলে মাথা ঘোরা বা মানসিক বিভ্রান্তির মতো বড় বিপদ হানা দেয় হুটহাট।
বয়স্ক আর শিশুদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ফল হয় আরও বেশি মারাত্মক কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে অনেক কম। বিশেষ করে বয়স্কদের তৃষ্ণা পাওয়ার অনুভূতি কমে যায় বলে তারা অজান্তেই কিডনি বিকল হওয়া বা মারাত্বক সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েন সহজেই।
তাই সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারা দিন নিয়ম করে পানি পান করা আর অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই হবে বর্তমান গরমে সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ।




