বজ্রপাত থেকে বাঁচতে কী করবেন, কী করবেন না

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ও বজ্রপাতে আজ রবিবার এক দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, জামালপুরসহ একাধিক জেলায়। প্রতি বছরই বজ্রপাতের কারণে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। যার বড় কারণ অসচেতনতা। একটু সতর্ক হলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
কী করবেন
উঁচু জায়গা এড়িয়ে চলুন : বজ্রপাত সাধারণত উঁচু বস্তুতে আঘাত হানে। তাই খোলা মাঠ, ধানক্ষেত বা ছাদে থাকলে দ্রুত নিচু হয়ে বসুন এবং নিরাপদ স্থানে চলে যান।
পাকা দালানে আশ্রয় নিন : সম্ভব হলে কোনো কংক্রিটের ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন। এটি বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকুন : উঁচু গাছ, বিশেষ করে তালগাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক। বজ্রপাত এসব জায়গায় বেশি হয়।
জানালা বন্ধ রাখুন : বাড়িতে থাকলে জানালার কাছ থেকে দূরে থাকুন এবং দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।
পানি থেকে দ্রুত সরে আসুন : পুকুর, নদী বা জলাবদ্ধ জায়গা বজ্রপাতের সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
দূরত্ব বজায় রাখুন : খোলা জায়গায় একসঙ্গে অনেকজন থাকলে পরস্পরের থেকে ৫০-১০০ ফুট দূরে সরে যান।
নিচু হয়ে বসুন, কিন্তু শুয়ে পড়বেন না : বজ্রপাতের আশঙ্কা হলে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসুন। মাটিতে শুয়ে পড়লে ঝুঁকি বাড়ে।
রাবারের জুতা ব্যবহার করুন : রাবার বিদ্যুৎ অপরিবাহী, তাই বজ্রপাতের সময় রাবারের জুতা কিছুটা সুরক্ষা দেয়।
বাড়িতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিন : সঠিকভাবে আর্থিং বা বজ্রনিরোধক রড স্থাপন করলে বাড়ি সুরক্ষিত থাকে। এজন্য অবশ্যই দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন।
কী করবেন না
* খোলা স্থানে একা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। মাঠের মাঝখানে বা ফাঁকা জায়গায় একা থাকলে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে।
* উঁচু গাছ বা ছাউনির নিচে আশ্রয় নেবেন না। এগুলো বজ্রপাতের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু।
* ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না। কল, পাইপ, রেলিং বা ল্যান্ডলাইন ফোন স্পর্শ করা বিপজ্জনক হতে পারে।
* বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করবেন না। বজ্রপাতের সময় টিভি, ফ্রিজ বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। আগে থেকেই প্লাগ খুলে রাখুন।
* গাড়ির ধাতব অংশ বা কাচ স্পর্শ করবেন না। গাড়ির ভেতরে থাকলে ধাতব অংশে হাত না দেওয়াই নিরাপদ।
* পানিতে অবস্থান করবেন না। নৌকায় মাছ ধরা বা পানিতে থাকা বজ্রপাতের সময় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
বজ্রপাতের আগাম লক্ষণ
বজ্রপাতের আগে কিছু সংকেত পাওয়া যেতে পারে—চুল খাড়া হয়ে যাওয়া, ত্বকে শিরশির অনুভূতি, ধাতব বস্তুতে কম্পন বা ‘ক্রি ক্রি’ শব্দ শোনা। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
বজ্রপাতে আহত হলে করণীয়
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে (প্রাথমিক চিকিৎসা জানা থাকলে তা প্রয়োগ করুন)। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।



