টেবিল টেনিসে মানুষকে হারিয়ে দিলো রোবট

মায়ুকা তাইরা একজন জাপানি পেশাদার টেবিল টেনিস খেলোয়াড়। ২০১৯ ইউএস ওপেন টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের একক ফাইনালে পৌঁছে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ‘এস’র সঙ্গে প্রতিযোগিতা ম্যাচ খেলেন। ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জয়যাত্রা এখন সবখানেই। এআই এখন শুধু সাদা-কালো দাবার বোর্ড কিংবা কম্পিউটারের পর্দায় আবদ্ধ নেই। গাণিতিক সমীকরণ আর অ্যালগরিদমের জটিল জাল পেরিয়ে এআই এবার নেমে পড়েছে খেলার মাঠে। যেখানে প্রতিটি শট, প্রতিটি স্পিন, আর প্রতিটি মুহূর্ত নির্ধারণ করে শ্রেষ্ঠত্ব। সেই বাস্তব ময়দানেই মানুষের দক্ষতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে এই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী।
জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনির তৈরি ‘এস’ নামের এক রোবটিক বাহু যেন নিছক যন্ত্র নয়, বরং এক নির্ভুল প্রতিক্রিয়াশীল খেলোয়াড়। যার সামনে দাঁড়িয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বমানের টেবিল টেনিস তারকারা। খেলাটি আর শুধু মানুষে মানুষে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এটি মানুষ বনাম মেশিনের রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ।
টেবিল টেনিসে শীর্ষ মানব খেলোয়াড়দের পরাজিত করে প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়ায় এক নতুন মাইলফলক গড়েছে ‘এস’ রোবট।
অভিজাত খেলোয়াড়দের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে রোবটটি। তবে পেশাদার খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলায় হেরেছে দুই ম্যাচ। মোট সাতটি প্রতিযোগিতায় জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয় একটিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ফলাফল এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিরই প্রমাণ। দীর্ঘদিন ধরেই টেবিল টেনিসকে রোবোটিক্সের জন্য বিবেচনা করা হয় একটি কঠিন বেঞ্চমার্ক হিসেবে। কারণ এর জন্য প্রয়োজন হয় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত পর্যবেক্ষণ এবং সূক্ষ্ম মোটর নিয়ন্ত্রণ।
অফিসিয়াল নিয়মে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে ‘এস’ অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে স্পিন নিয়ন্ত্রণে। এটি সক্ষম হয়েছে অনুমান করা কঠিন শট ফিরিয়ে দিতে। এমনকি তৈরি করেছে দ্রুত ব্যাকস্পিনও। যা অসম্ভব ভেবেছিলেন একজন সাবেক অলিম্পিক খেলোয়াড়।
‘এস’ মানবাকৃতির রোবটগুলোর মতো নয়। এটি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় আট-জয়েন্টযুক্ত রোবটিক বাহু। যা স্থাপিত একটি মোবাইল বেসের ওপর। এটি বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে উচ্চগতির প্রতিযোগিতামূলক খেলায় পারফরম্যান্সের জন্যই।
গবেষকরা এই সাফল্যের প্রশংসা করলেও কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, টেবিল টেনিসে দক্ষতা অর্জন রোবোটিক্সের বিস্তৃত চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান নয়।
জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডার্মস্টাডটের ইন্টেলিজেন্ট অটোনোমাস সিস্টেমসের অধ্যাপক ইয়ান পিটারস। তিনি টেবিল টেনিস রোবট নিয়ে কাজ করা একজন গবেষক। এই প্রকল্পকে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইয়ান পিটারস বলেছেন, এই ধরনের অগ্রগতি সমাধান করবে না রোবোটিক্সের মৌলিক সমস্যাগুলোর। দৈনন্দিন জীবনে মানুষের উপযোগী হতে হলে আরও অনেক প্রথাগত প্রকৌশল উন্নয়ন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, আগামী দশকের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আসবে, যা ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির মতো বদলে দেবে বিশ্বকে। সেই মুহূর্তটি হয়তো ২০৩৬ সালের চেয়ে এখনকার সময়ের কাছাকাছিই।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ




