রঙিন ফুলের খোঁজে

ছবি এঁকেছেন রজত
তাবিথা পেজ। আমেরিকান লেখক ও শিল্পী। তার ‘আ ট্রিপ টু দ্য ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার মিডো’ বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তোমাদের জন্য গল্পটি লিখেছেন ফুলের বন্ধু সানজিদা সামরিন
তোমরা কি ছোট্ট খরগোশটিকে দেখতে পাচ্ছ? কোথায় যাচ্ছে সে? জানো না? চলো তো জিজ্ঞেস করি!
‘কী খবর ছোট্ট খরগোশ! যাচ্ছ কোথায় শুনি?’
‘যাই ভাই বাগানের দিকে। মাঠের দিকেও যেতে হবে। দেখি কোনো ফুল ফুটেছে কি না। ভাবছি, আমার বন্ধু ইঁদুরের জন্য কিছু ফুল তুলব। সে ভীষণ অসুস্থ, জানো? কয়েক দিন ধরে মনমরা হয়ে বসে আছে। আমি চাই নানান রঙের ফুল দেখে সে একটু হেসে উঠুক। এ কারণেই এত সকালে বের হচ্ছি।’
খরগোশ মনে মনে ভাবতে লাগল, ইঁদুর নিশ্চয় ফুল খুব ভালোবাসে। লাল, সাদা, হলুদ, নীল— সব রঙের ফুলই তার প্রিয়।
আরে কী সুন্দর ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসছে। ওমা! এ তো হলুদ গোলাপ। খরগোশ ভাবল, এটা তো সে নেবেই নেবে, সঙ্গে আরও অনেক ফুল নিয়ে যাবে ইঁদুরের জন্য।
ফুল তুলতে গিয়ে খরগোশ দেখল, গোলাপের ডালে সবুজ এক শুঁয়োপোকা গায়ে ঢেউখেলিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে খুব সাবধানেই ফুলটা ছিঁড়ল, যাতে ওই বেচারার কোনো অসুবিধা না হয়।
গোলাপ ফুল মুখে নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে খরগোশ এবার বড় মাঠটায় গিয়ে পৌঁছাল। অনেক অনেক ঘাসফুল ফুটেছে সেখানে। সাদা, বেগুনি, গোলাপি ছোট ছোট কত্ত সুন্দর সব ফুল। সেগুলো থেকেই দুয়েকটা করে ফুল নিল সে।
ফুল নেওয়ার সময় দেখল, পরিচিত এক মাকড়সা ছোট্ট গাছের পাতার ওপর দিব্যি ঘুমাচ্ছে। খরগোশ ভেবে পেল না, তাকে ডেকে তুলবে, নাকি শান্তিতে ঘুমাতে দেওয়াই ঠিক হবে। শেষমেশ ভাবল— থাক, মহা আরামে ঘুমাচ্ছে যেহেতু, সেহেতু আর ডাকা ঠিক হবে না। এরপর যেতে যেতে যে পার হচ্ছিল এক বাড়ির উঠোন দিয়ে। চোখে পড়ল ছোট বাগানে গাঁদা ফুটে আছে। আহা কী সুন্দর রঙ, যেন সূর্য থেকে মাত্রই রঙ চুরি করেছে সে। তবে সেখান থেকে ফুল খুব সাবধানে নিতে হবে। কারণ, ওই যে মৌমাছিরা টহল দিচ্ছে, একটু টের পেলেই হুল ফুটিয়ে বসবে!
কোনোরকমে ফুল তুলে সে এগোতে লাগল। পথের ধারেই পলাশ ফুল পড়ে আছে, সেগুলোও তো নেওয়া চাই। তখনই দেখা প্রজাপতির সঙ্গে। ডানা ঝাপটে কাছে আসতেই খরগোশ তাকে বলল, ‘তোমার সঙ্গে পরে দেখা হবে ভাই, অন্য কোনো দিন। আজ তবে আসি। তাড়া আছে বড্ড!’
ফুল তো বেশ কিছু জোগাড় হলো, কিন্তু বড় সবুজ কোনো পাতায় মুড়ে ফুলগুলো ইঁদুরকে দিলে তবেই না ভালো দেখায়। বটগাছের তলে সবুজ পাতা পড়েই ছিল। ওটা আবার কী...? কাছে গিয়ে খরগোশ দেখে, ছোট্ট লাল এক পোকা মন খারাপ করে হেঁটে বেড়াচ্ছে পাতার ওপর। খরগোশ তাকে বিরক্ত না করে অন্য পাতার খোঁজ করল। প্রায় হলুদ হয়ে আসা একটা পাতাই বেছে নিল শেষমেশ। এবার বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার পালা। ইঁদুরের গর্তের কাছে গিয়ে খরগোশ বলল, ‘কী গো, বাড়ি আছো? দেখো আমি তোমার জন্য কী নিয়ে এসেছি!’
ইঁদুর হাসিমুখে বেরিয়ে আসতেই খরগোশ তার হাতে পাতায় মোড়ানো ফুলগুলো দিল। ইঁদুর তো খুশিতে আটখানা। সে বলে উঠল, ‘আরে আমি তো এমন কিছুই চাইছিলাম! তুমি আমার দিনটা সুন্দর করে দিলে বন্ধু। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ!’
আচ্ছা শোনো, এই যে তোমাকেই বলছি। খরগোশের সঙ্গে নানারকম ফুল তুলতে গিয়ে কার কার সঙ্গে তোমারও দেখা হলো, বলো তো! শুঁয়োপোকা, মাকড়সা, মৌমাছি আর? একে একে বলো তো শুনি!




