ফুলের বাগানে প্রজাপতি

অলংকরণ করেছেন রজত
দুই বোনের পছন্দের মধ্যে খুব মিল। আবার ঘুমের মধ্যেও ওরা একই স্বপ্ন দেখে। সেই গল্প লিখেছেন গাজী তারেক আজিজ
ইয়াশা একদিন দাদুর সঙ্গে সবজি বাগানে গেল। দাদু শাকসবজি তুলতে শুরু করলেন। হঠাৎ ইয়াশার চোখে পড়ল, একটি ফুলের ওপর প্রজাপতি বসে আছে। সে ধরতে যেতেই প্রজাপতিটি পাখা ঝাপটে উড়ে গেল। দাদুকে ইয়াশা জিজ্ঞেস করল, ‘দাদু, এই ফুলের নাম কী?’
দাদু বললেন, ‘কোন ফুল, ইয়াশা?’
ইয়াশা ফুল ছুঁয়ে দেখিয়ে বলল, ‘এই যে দাদু।’
দাদু হেসে বললেন, ‘এটা শিমের ফুল।’
ইয়াশা মনে মনে ভাবল, প্রজাপতির প্রিয় বুঝি শিম ফুল। আবার তার মনে হলো, প্রজাপতি তো সব ফুলেই বসে। কিন্তু ভালো করে খেয়াল করে দেখল, অনেক প্রজাপতি আসে আর যায়; কিন্তু শিম ফুল ছাড়া অন্য কোনো ফুলে বসে না। সে একটু অবাক হলো।
শিম ফুলগুলো আশ্চর্য রকম সুন্দর। কিছু ফুল ধবধবে সাদা, আবার কিছু বেগুনি রঙের। সূর্যের আলোয় ফুলগুলো ঝিকমিক করে।
আজ ইয়াশা দাদুর সঙ্গে নয়, একা একাই বাগানে এসেছে। বাগান জুড়ে ফুল ফুটে আছে। নানারকম প্রজাপতিতে যেন বাগানটায় ছোট্ট এক মেলা বসেছে। এসব দেখে ইয়াশা খুব খুশি। সে একবার একটি প্রজাপতির দিকে হাত বাড়ায়, আবার আরেকটির দিকে। ছুঁয়ে দিয়ে বলতে চায়, ‘তুমি খুব সুন্দর!’
প্রজাপতিরা একটু দূরে উড়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে। ইয়াশা হাসে। চারপাশে কেমন যেন স্বপ্নের মতো পরিবেশ।
বাগানে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব কথা ইয়াশা বোন ইনায়াকে বলে। ইনায়াও একদিন চুপিচুপি বাগানে যায়। গিয়ে দেখে শুধু ফুল আর ফুল। এত ফুল দেখে সে যেন ফুলের রাজ্যে হারিয়ে যায়। একদিকে ঝিরঝিরে বাতাস, অন্যদিকে ফুলের মিষ্টি সুবাস। সে চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেয়। মনে হয়, সে আর বাগান আলাদা নয়।
এদিকে সারা বাড়ি খুঁজেও ইনায়াকে না পেয়ে ইয়াশা দৌড়ে বাগানে আসে। এসে হঠাৎ থমকে যায়। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মানুষের মতো বড় একটি প্রজাপতি! বুক দুরুদুরু করে ওঠে তার। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
ঝোপের আড়াল থেকে তাকিয়ে দেখে, আরে, এ তো ইনায়া!
ইয়াশা অবাক হয়ে ভাবে, ইনায়া প্রজাপতি হলো কবে?
কাছে গিয়ে দেখে, কালো রঙের একটি পার্টি ড্রেস পরা ইনায়া দাঁড়িয়ে আছে। পুরো ড্রেসটাই যেন প্রজাপতির মতো। পিঠে দুটি বড় পাখা, হালকা হাওয়ায় নড়ছে। ইনায়া চোখ বন্ধ করে হাসছে। কয়েকটি প্রজাপতি তার চোখেমুখে নরম ডানা ছুঁইয়ে দিচ্ছে। সে যেন কিছুই জানে না, শুধু আনন্দে ভেসে আছে।
হঠাৎ চোখ খুলে ইয়াশাকে দেখে ইনায়া একটু চমকে গেল। দুজনই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। কিছু বলার দরকার হলো না। ওরা বুঝতে পারল, দুজনেরই পছন্দ এক— ফুল আর প্রজাপতি।
যখন ওরা বাগান থেকে বের হতে গেল, কয়েকটি প্রজাপতি উড়ে উড়ে ওদের পথ দেখিয়ে দিল। তারপর ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল আকাশে।
সকালে ঘুম ভাঙাতে এসে মা দেখে, ইয়াশা আর ইনায়া দুজনই হাসছে। কিন্তু আশ্চর্য! ওরা তো এখনো ঘুমাচ্ছে। মা আলতো করে ডাকতেই ওদের চোখ খুলে গেল। দুজনই এদিক-ওদিক তাকিয়ে যেন কিছু খুঁজছে।
বিছানা ছেড়ে উঠে ওরা একজন আরেকজনকে স্বপ্নের ফুল আর প্রজাপতির কথা বলল। কথা মিলতে মিলতে দুজনই থেমে গেল। অবাক হয়ে তাকাল।
দাদু সব শুনে মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন, ‘স্বপ্ন কখনো কখনো গল্পের মতো হয়। আবার গল্পও কখনো কখনো স্বপ্ন হয়ে যায়।’
ইয়াশা আর ইনায়া কিছুই বলল না। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখল, একটি প্রজাপতি উড়ে যাচ্ছে বাগানের দিকে। এটা হয়তো সত্যি, হয়তো স্বপ্ন, কে জানে!



