একটি কিউট কুকুরছানা

অলংকরণ করেছেন রজত
একের পর এক বিপদে পড়েছিল আদুরে এক কুকুরছানা। কী হলো শেষ পর্যন্ত। জানতে হলে পড়ো এই গল্প। লিখেছেন দন্ত্যস রওশন
কুকুরছানাটি দৌড়ে উপরে উঠে যায়। দশটা সিঁড়ি ভেঙে একদম উপরে, ছাদের উপর। এদিক-ওদিক তাকায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘কী সুন্দর আকাশ!’
ছাদে কুকুরছানা আনন্দে লাফালাফি করছে। একটা কাক বসেছিল পানির ট্যাঙ্কের উপর। উড়ে এসে কুকুরছানার লেজে ঠোকর দেয়। এতে বেশ মজা পায় ছানাটি। তার লাফানো আরও বেড়ে যায়।
হঠাৎ একটা বাজপাখি উড়ে এলো। কুকুরছানার উপর হামলা করল। ধারালো পায়ের নখ দিয়ে খামচে ধরল তাকে। তারপর উড়িয়ে নিয়ে গেল আকাশের অনেক উপরে।
ছানাটি চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। বলে, ‘বাঁচাও বাঁচাও! আমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে যাও।’ কাকটা কা কা করতে থাকে।
সেই সময় আকাশে উড়ছিল একটি ঈগল পাখি। সে বলল, ‘বাজপাখি, ছানাটিকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দে। তা না হলে তোর খবর আছে!’
ঈগল বাজপাখির লেজ কামড়ে ধরে। পিঠে ঠোকর দেয়। ঈগলের সঙ্গে বাজপাখি পারল না। সে কুকুরছানাকে ছেড়ে দিল।
কুকুরছানাকে ঈগল বলল, ‘এবার তুমি আমার পিঠে এসে বসো।’ ছানাটি এবার ঈগলের পিঠে গিয়ে বসে। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘কী সুন্দর মেঘ!’
বেশ কিছুক্ষণ ওড়ার পর ঈগল নেমে গেল একটা বনে। ঈগল আদর করেই তার পিঠ থেকে নামিয়ে দিল তাকে। বলল, ‘আমরা কাছাকাছি এসে পড়েছি।’
চারদিকে ঘন বন। কুকুরছানা কোনদিকে যাবে বুঝতে পারছে না। কাঁদতে শুরু করে সে। তার চোখে পানি চলে এলো। চিৎকার করে বলল, ‘বাঁচাও বাঁচাও! আমি আমার মায়ের কাছে যাব।’
একটি হরিণের বাচ্চা ছুটে এলো। বলল, ‘কেঁদো না। আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। এসো আমার সঙ্গে।’
কুকুরছানা হরিণের পিছনে পিছনে ছুটল। কুকুরছানা বলল, ‘এখানে কোনো ঘরবাড়ি নেই। তোমরা থাকো কোথায়?’
এই কথা শুনে হরিণের বাচ্চা হাসে। বলে, ‘কুকুররা ঘরবাড়িতে থাকে। আমরা থাকি বনে।’
বন শেষ হয়েছে। একটা রাস্তা দেখিয়ে হরিণছানা বলে, ‘ওই দিকে যাও। তোমার মাকে পেয়ে যাবে।’
কুকুরছানার হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। সামনে পড়ে একটা মুদি দোকান। সে মুদি দোকানিকে বলল, ‘আমাকে একটু বিস্কুট দেবেন?’
দোকানি লাঠি উঁচু করে ধরে। সেটা দেখে ভয়ে কুকুরছানা দৌড়ে পালায়।
কোথা থেকে যেন একটা লোক ছুটে আসে । রেগে গিয়ে বলে, ‘কুকুর-বিড়ালকে শেষ করে দিতে হবে। ওরা আমার অনেক ক্ষতি করেছে।’
কুকুরছানা ভয়ে দৌড় দেয়। তার পিছনে পিছনে লোকটাও ছুটে যায়। সে তার লাঠি দিয়ে মারল এক বাড়ি। অমনি কুকুরছানার একটা পা গেল ভেঙে।
ছানাটি হাঁটতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর মা কুকুরটি ছুটে এলো সেখানে। ছানার অবস্থা দেখে তার ভীষণ মন খারাপ হয়। ছানার ঘাড়ে কামড় দিয়ে ধরে ছুটতে থাকে।
পথে একটা বাঁশের সাঁকো। এটা পার হতে হবে। সেই সাঁকো দিয়ে ওই লোক পার হচ্ছিল। যে লোক কুকুরছানাকে মেরেছে। লোকটা যেতে যেতে হঠাৎ পা পিছলে ঝপ করে নিচে পানিতে পড়ে যায়।
তখন মা কুকুরটা লাফিয়ে পড়ল পানিতে। লোকটা ডুবে যাচ্ছে। ছানাটি বলল, ‘ভালো হয়েছে। লোকটা পানিতে পড়েছে। আমাকে মেরেছে, পা ভেঙে দিয়েছে।’
মা কুকুর লোকটার শার্টের কলার কামড়ে ধরল। তারপর উপরে টেনে তুলল। ছানাটি বলল, ‘মা, একে শাস্তি দিতে হবে। লোকটা আমাকে মেরেছে।’
মা কুকুর বলল, ‘আমি তো ওকে শাস্তিই দিলাম।’ ছানাটি বলল, ‘তুমি তো ওকে বাঁচালে!’
মা তখন বলল, ‘এটাই ওর শাস্তি। ও নিজের ভুল বুঝতে পারবে।’
লোকটা এদিক ওদিক তাকায়। তারপর হঠাৎ ছানাটাকে কোলে তুলে নিয়ে দেয় দৌড়। কি হলো, মা কুকুর কিছুই বুঝতে পারছে না। ছানাটি বলল, ‘মা বাঁচাও বাঁচাও!’
লোকটা দৌড়াচ্ছে, মা কুকুরও তার পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছে। মা কুকুর কিছুতেই তার সঙ্গে পারছে না। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে?
লোকটা দৌড়ে একটা বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেল। ছানাটি বলল, ‘মা, তুমি আমাকে বাঁচাতে পারলে না। আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!’
মা কুকুরটির চোখ হঠাৎ উপরের দিকে যায়। তার চোখে পড়ল একটা সাইনবোর্ডে লেখা: ‘বকচর আনন্দ পশু হাসপাতাল’। এটা দেখে মা কুকুরটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সে ভিতরে ঢুকে গেল। দেখল একজন তরুণী ডাক্তার তার বাচ্চাটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘এত কিউট বাচ্চার পা ভেঙে দিল কে? আমি ওষুধ দিচ্ছি, ঠিক হয়ে যাবে।’
ডাক্তারের কথা শুনে লোকটা অনেক লজ্জা পেল। তখন কিউট কুকুরছানাটি আদর করে তার জিভ দিয়ে লোকটার গাল চেটে দিল।




