বিশ্বকাপ টিকিটের দাম বেড়েছে ১১ হাজার গুণ!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শুধু খেলার নয়, ফুটবল বিশ্বকাপ সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির গল্প। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক একটি ছোট কাগজের টিকিট। লিখেছেন সৈয়দ ফরহাদ
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় উরুগুয়েতে। তবে সেই সময়ের টিকিটের সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা আজও সংরক্ষিত নয় বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইতিহাসবিদদের মতে, তখন টিকিট ছিল তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং স্থানীয় দর্শকদের জন্য সহজলভ্য। এমনকি ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে সঠিক ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।
১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ছিল আনুমানিক ১ থেকে ১০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ ২০ থেকে ২০০ ব্রাজিলিয়ান ক্রুজেইরোর সমান। সেই সময় গ্রুপ পর্বের টিকিট ছিল সবচেয়ে সস্তা, আর ফাইনালের আসন তুলনামূলকভাবে বেশি দামের ছিল।
ওই বিশ্বকাপেই ঘটে ফুটবলের সবচেয়ে বিখ্যাত ম্যাচ— ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে ফাইনাল, যা ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত। সরকারি হিসাবে সেই ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ জন দর্শক।
একসময় দর্শকদের সরাসরি গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনতে হতো।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে আধুনিক অনলাইন টিকেটিং যুগের বড় পরিবর্তন আসে সেই সময় ফিফা প্রথম বড় পরিসরে ইন্টারনেটভিত্তিক আবেদন এবং ইলেকট্রনিক লটারি (ballot) সিস্টেম চালু করে, যেখানে দর্শকরা অনলাইনে আবেদন করতেন এবং পরে লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হতো।
এর পর থেকে ধীরে ধীরে ই-টিকিট, মোবাইল টিকিট এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেম বিশ্বকাপের স্থায়ী অংশ হয়ে যায়।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে টিকিটের কালোবাজারি নিয়ে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসে। ব্রাজিলের পুলিশ অভিযোগ করে, একটি আন্তর্জাতিক চক্র ফিফার করপোরেট হসপিটালিটি বরাদ্দ থেকে পাওয়া টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করে প্রতি ম্যাচে লাখ লাখ ইউরো আয় করছিল। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নামও উঠে আসে। পুলিশ সন্দেহ প্রকাশ করে, ফিফা বা এর অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে কেউ চক্রটিকে সহায়তা করেছিল। পরে টিকিট জালিয়াতি ঠেকাতে ফিফা ডিজিটাল টিকিট ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করে।
২০২৬ বিশ্বকাপে এসে টিকিটের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফিফার ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের সবচেয়ে দামি অফিসিয়াল টিকিটের মূল্য প্রায় ১০ হাজার ৯৯০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। এটি ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ ব্যবস্থার অংশ, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: গার্ডিয়ান, সকার ফাইল




