চুলকানি মানেই অ্যালার্জি নয়
- মানুষ সাধারণত শরীরের কোথাও চুলকালেই ভাবেন ‘অ্যালার্জি’। তখন বেশিরভাগ মানুষের ত্বকেই খুঁজে পাওয়া যায় দাঁদ। এটি একধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন। চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ক্রিম ব্যবহার করলেই এটি সেরে যায়

ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে আলো ও বাতাসের অভাবে ত্বকের সমস্যা এমনিতেই প্রকট। ইদানীং অনেক মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। স্টেরয়েডেও ঠিকঠাক সেরে উঠছেন না। গ্রীষ্ম এসব দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত করে। গরমের ঘাম শুকনো ত্বক ভিজিয়ে সমস্যা আরও প্রকট করে। যদি সেটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়ে থাকে, তাহলে অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড চুলকানি শুরু হয়।
মানুষ সাধারণত শরীরের কোথাও চুলকালেই ভাবেন ‘অ্যালার্জি’। তখন বেশিরভাগ মানুষের ত্বকেই খুঁজে পাওয়া যায় দাঁদ। এটি একধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন। চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ক্রিম ব্যবহার করলেই এটি সেরে যায়। এটি প্রতিরোধে ঘামে ভেজা জামা বেশি সময় পরে থাকা যাবে না। গরমে ঢিলেঢালা জামা ব্যবহার করতে হবে, যেন ভেজা জামা গায়ে লেপ্টে থাকার সুযোগ না পায়।
কোথাও চাকা হয়ে ফুলে গেলে
অনেকের হঠাৎ করেই শরীরের যেকোনো জায়গায় চাকা হয়ে ফুলে ওঠে। এটি বেশ উঁচু হয় এবং তীব্র চুলকানি থাকে। কিছুক্ষণ পর এটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। একে বলে আর্টিকেরিয়া। ধুলোবালি, ফুলের রেণু কিংবা কোনো বিশেষ ওষুধের কারণে এমনটা হতে পারে। এটি বেশ কষ্টদায়ক। আর্টিকেরিয়া বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে চিকিৎসকরা অনেক সময় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেন। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ ভুলেও ব্যবহার করা যাবে না।
খাবারেও হতে পারে অ্যালার্জি
গ্রীষ্মের এই সময়ে কিছু খাবার খেলে অ্যালার্জির কষ্ট হুট করে বেড়ে যায়। খাবার খাওয়ার পরেই দেখা যায়, শরীর চাকা চাকা হয়ে ফুলে উঠছে। কিছুক্ষণ পর তা চলেও যায়। মাংসের মধ্যে গরু ও হাঁসের মাংসের কারণে এটি বেশি হয়। মাছের মধ্যে ইলিশ ও চিংড়ি অ্যালার্জির জন্য দায়ী। সবজির তালিকায় আছে বেগুন আর কচু। শাকের মধ্যে পুঁই ও পালংশাক খেলে অনেকের চুলকানি বাড়ে। খাবারে অ্যালার্জি দেখা দিলে রক্তে অ্যালার্জির মাত্রা বা আইজিই লেভেল পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অল্প কয়েক দিন অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে হবে। আর যে খাবারে ভুগতে হয়, তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ওষুধের কারণে অ্যালার্জি
যেকোনো ওষুধ খাওয়ার পর শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। একে ড্রাগ রিঅ্যাকশন বলে। আবার কিছু ওষুধ আছে, যা খেলে প্রতিবার শরীরের ঠিক একই জায়গায় সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে জায়গাটি লাল হয়, তারপর ফোসকা পড়ে এবং শেষে কালো গোল দাগ হয়ে যায়। সাধারণত ঠোঁট, গোপনাঙ্গ বা শরীরের নরম চামড়ায় এই দাগগুলো পড়ে। কোন ওষুধটি খেয়ে এই সমস্যা হলো, তা মনে রাখতে হবে। পরে অন্য কোনো ডাক্তারের কাছে গেলেও এই ওষুধের নাম আগেভাগে জানিয়ে দিন। তখন ডাক্তার আপনাকে বিকল্প ওষুধ লিখে দেবেন।
শিশুর বাড়তি যত্ন
ছোট বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই নতুন পরিবেশ বা ধুলোবালির সংস্পর্শে এলেই ওদের হাঁচি-কাশি আর অ্যালার্জি শুরু হয়। অনেক শিশুর আবার জন্মগতভাবেই অ্যালার্জির প্রবণতা থাকে, যাকে চিকিৎসকরা ‘এটোপিক ডার্মাটাইটিস’ বলেন। এটি দীর্ঘস্থায়ী একজিমা। তবে আশার কথা, ১০-১২ বছর বয়স হতে হতে শিশুরা এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং অ্যালার্জির প্রবণতা কমে যায়। এটি থেকে মুক্তি পেতে শিশুকে সবসময় ধুলোবালি থেকে দূরে রাখুন। যখন প্রথম স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন ক্লাসরুমের ময়লা থেকে সাবধানে রাখতে হবে। অ্যালার্জি আছে এমন শিশুদের জ্বর বা অন্য অসুখ হলে নিতে হয় একটু বাড়তি যত্ন।
খেয়াল রাখুন প্রবীণদের দিকে
প্রবীণদের ত্বকের শুষ্কতার কারণেই শরীরে এক ধরনের চুলকানি ওঠে। যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে এই শুষ্কতা এবং চুলকানির কষ্ট আরও বেড়ে যায়। শীত হোক বা গরম— সারা বছরই তারা এই সমস্যায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে ত্বকের প্রধান দাওয়াই হলো ময়েশ্চারাইজার। নিয়মিত ভ্যাসলিন, অলিভ অয়েল বা ভালো ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, চর্মরোগ বিভাগ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়




