মাছের বৈচিত্র্য নিয়ে চীনে বৃত্তি

সাবিত হাসান
সাবিত হাসান। জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষকদের সঙ্গে সহগবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তার যুক্ত থাকা ১২টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। মাছের বৈচিত্র্য নিয়ে তিনি বেশি কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনটি গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে।
সম্প্রতি চীনের মর্যাদাপূর্ণ ক্যাস-অ্যানসোর পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি লাভ করেছেন সাবিত। এর অধীনে চীনের ইউনিভার্সিটি অব চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব হাইড্রো-বায়োলজিতে মাস্টার্স করবেন। এখানেও তার পড়ার বিষয় ফিশ ডাইভারসিটি। সম্পূর্ণ বিনা খরচের এই বৃত্তিতে তিনি মাসে চার হাজার ইউয়ান ভাতা, বিনা খরচে থাকা, আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়াসহ উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবেন।
জাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাবিতের যুক্ত থাকা ১২টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে
সাবিত বললেন, ‘স্নাতকে আমার সিজিপিএ তুলনামূলকভাবে কম (৩.২৮)। তবু বিভিন্ন গবেষণাপত্র ও গবেষণা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি পাইয়ে দিয়েছে। ২০২০ সালে সৈয়দ আরিফুল হক স্যারের হাত ধরে গবেষণায় আমার যাত্রা শুরু হয়। পরে নিয়মিত বিভিন্ন গবেষণায় যুক্ত থেকেছি। চীনে এই স্কলারশিপ অর্জনের পেছনে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম (সুমন) স্যারের দিকনির্দেশনা এবং আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র মেহেদী হাসান (সানি) ভাইয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিবারের সমর্থন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।’ তিনি আরও বললেন, ‘একটি ভালো স্কলারশিপ পাওয়া আসলেই কঠিন। চীনের অধ্যাপকের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে যোগাযোগ রাখতে হয়েছে। তিনি আমার ফিশ ডাইভারসিটি নিয়ে কাজ দেখে তার সঙ্গে ল্যাবে কাজ করার জন্য বলেন। তারপর আমাকে এক্সসেপটন্স লেটার প্রদান করেন।’ ৩০ আগস্ট চীনের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন তিনি।
সাবিতের গবেষণা সুপারভাইজার ও জাবিপ্রবি ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ আলী বললেন, ‘সাবিত আমার দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছে। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং গবেষণার কাজ খুব ভালো বোঝে। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ তার প্রাপ্য ছিল। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে আরও বড় পরিসরে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’
ফিশারিজ বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বললেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সাবিত চীনে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ অর্জন করেছে। এটি বিভাগের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তার এই সাফল্য আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে বলে বিশ্বাস করি।’





