বিউটি
চোখের ক্যানভাসে

মডেল: জিনিয়া নুসরাত, সাজ: শোভন মেকওভার, ছবি: আশরাফুল আলম
কাজল আর কালো আইলাইনারের গণ্ডি পেরিয়ে চোখের সাজ ব্যক্তিত্বও প্রকাশ করে। রঙ, টেক্সচার, ভ্রুর গড়ন, পাপড়ির ছোঁয়া— সব মিলিয়ে তা নজরে পড়ে সবার আগে। লিখেছেন ফারিয়া আলম
একটা সময় মেকআপে সবচেয়ে বেশি নজর থাকত ঠেঁাটের ওপর। দৃশ্যপট অনেকটাই বদলেছে। মনোযোগের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে চোখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন উইক, কে-বিউটির প্রভাব, জেন-জির সাহসী স্টাইল আর মিনিমাল মেকআপের জনপ্রিয়তা— সব মিলিয়ে চোখের সাজে এসেছে নতুন ট্রেন্ড; যা সুন্দর দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিত্ব, মেজাজ, এমনকি আত্মবিশ্বাসেরও প্রকাশ ঘটায়।
সাজ কৌশল
এখনকার সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড সফট গ্ল্যাম। অর্থাৎ মেকআপ আছে কিন্তু তা চোখে পড়ার মতো ভারী নয়। হালকা টোপ, মভ, ব্রোঞ্জ, পিচ কিংবা কোমল বাদামি আইশ্যাডো, পাতলা আইলাইনার আর সুন্দরভাবে কার্ল করা পাপড়ি মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিশীলিত লুক। দিনের অফিস, ক্যাম্পাস বা ব্রাঞ্চ— সব জায়গায় এ সাজ সমান মানানসই।
কালোর বাইরে
কালো কাজল কখনো পুরনো হবে না। তবে তার পাশে জায়গা করে নিয়েছে অলিভ গ্রিন, নেভি ব্লু, প্লাম, কপার, ব্রোঞ্জ, এমেরাল্ড এমনকি হোয়াইট ও বাটার ইয়েলো আইলাইনার। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো চোখে নয়, শুধু চোখের বাইরের কোণে কিংবা নিচের ল্যাশলাইনে একটু রঙ ব্যবহার করলেই পুরো লুক বদলে যায়।
ব্রাউন বিউটি
দৈনন্দিন সাজে কালো আইলাইনারের বদলে ব্রাউন লাইনার ও ব্রাউন মাসকারার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কারণ এমন রঙ চোখে কোমল, স্বাভাবিক ও পরিণত একটি সৌন্দর্য এনে দেয়। বিশেষ করে দিনের আলোয় ব্রাউন টোন অনেক বেশি রুচিশীল দেখায়।
পুরো চোখে নয় শুধু চোখের বাইরের কোণে কিংবা নিচের ল্যাশলাইনে একটু রঙ ব্যবহার করলেই পুরো লুক বদলে যায়
গ্লিটার ব্যবহার
একসময় চোখ জুড়ে গ্লিটার ব্যবহারের চল ছিল। এখন সেই প্রবণতা বদলেছে। চোখের ভেতরের কোনায় সামান্য শিমার, পাতার মাঝখানে একফেঁাটা আলো কিংবা স্যাটিন ফিনিশ আইশ্যাডোই রয়েছে ট্রেন্ডে। মেকআপ আর্টিস্টরা একে বলছেন লাইট-ক্যাচিং আই। যেখানে আলো পড়লে চোখে তৈরি হয় সূক্ষ্ম আভা।
গড়ন বুঝে
সব ট্রেন্ড সবার জন্য নয়। গোল গোল, টানা টানা, ছোট কিংবা গভীরে বসানো— প্রতিটি ধরনের চোখের জন্য আলাদা কৌশল প্রয়োজন। ছোট চোখে নিউড বা সাদা ওয়াটারলাইন চোখকে বড় দেখায়। টানা টানা চোখে পাতলা উইংড লাইনারই যথেষ্ট। গোল গোল চোখে বাইরের কোণে গাঢ় রঙ ব্যবহার করলে চোখ লম্বাটে দেখায়। অন্যদিকে হুডেড আইয়ের ক্ষেত্রে মোটা লাইনারের বদলে পাতলা লাইনার ভালো।
ভ্রু বিভ্রান্তি
চোখ সাজানোর আগে নজর দিতে হবে ভ্রুর দিকে। কেননা চোখের মেকআপ যত সুন্দরই হোক, অগোছালো ভ্রু নষ্ট করতে পারে পুরো লুকের ভারসাম্য। আগে চিকন, ধারালো ভ্রুর চল ছিল। এখন স্বাভাবিক, ঘন ও ফ্লাফি ভ্রুর জনপ্রিয়তা বেশি। শুধু ব্রাশ করে, সামান্য জেল বা পেনসিল দিয়ে ফাঁকা জায়গা পূরণ করলেই চোখের সাজ পাবে পূর্ণতা।
প্রিয় পাপড়ি
লম্বা, ভারী ফলস ল্যাশের জায়গায় এসেছে ন্যাচারাল ক্লাস্টার ল্যাশ। অনেকেই ফলস ল্যাশ না পরে শুধু আইল্যাশ কার্লার ও মাসকারা ব্যবহার করছেন। এতে চোখ উজ্জ্বল দেখায়, আবার সাজও স্বাভাবিক থাকে।
কাজলের পালাবদল
কাজল শুধু ওয়াটারলাইনে আটকে নেই। নিচের ল্যাশ লাইনে হালকা স্মাজ করে, চোখের কোণে টেনে বা ব্রাউন কাজল ব্যবহার করেও তৈরি হচ্ছে আধুনিক লুক। বর্ষার দিনে স্মাজ-প্রুফ ও ওয়াটারপ্রুফ কাজলই বেশি উপযুক্ত।
পোশাকের সঙ্গে সমীকরণ
পরনের জামদানি, তাঁত, মসলিন বা কটনের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে চোখে গাঢ় কালো কাজলের প্রয়োগ ঘটানো ছিল আগেকার ট্রেন্ড। এখন সেই জায়গায় এসেছে ব্রোঞ্জ আইশ্যাডো, সফট ব্রাউন লাইনার, হালকা শিমার আর ন্যাচারাল ভ্রু। অর্থাৎ দেশীয় ফ্যাশন ও রূপচর্চাও এখন আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, তবে নিজস্ব সৌন্দর্য বজায় রেখে।
জেন-জির চোখে
জেন-জিরা সাধারণত একঘেয়ে সাজে বিশ্বাস করেন না। এ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা কখনো দুই চোখে দুই রঙের লাইনার, কখনো প্যাস্টেল আইশ্যাডো, কখনো ছোট ফেস জেমস, আবার কখনো শুধু রঙিন মাসকারা ব্যবহার করছেন। তাদের কাছে মেকআপ মানে নিয়ম নয়; বরং সৃজনশীলতা।
বর্ষার দিনে
বৃষ্টিমুখর দিনগুলোতে চোখের সাজের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্দ্রতা। তাই ক্রিম আইশ্যাডো, স্মাজ-প্রুফ কাজল, টিউবিং মাসকারা এবং দীর্ঘস্থায়ী আইলাইনার ব্যবহার করলে সাজ দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকে। এই মৌসুমে অলিভ, মস গ্রিন, মিস্ট গ্রে, ব্রোঞ্জ ও মভ টোনের আই মেকআপ প্রকৃতির সঙ্গেও দারুণ মানিয়ে যায়।
খেয়াল রাখবেন
- চোখের গড়ন বুঝে আইলাইনার প্রয়োগ করুন
- দিনের বেলায় হালকা, রাতে একটু গাঢ় সাজ বেছে নিন
- একসঙ্গে চোখ ও ঠোঁট— দুটোতেই ভারী সাজে সাজবেন না
- চোখের সাজ শুরু করার আগে
- আই প্রাইমার ব্যবহার করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়
- ভ্রু ঠিক থাকলে অল্প মেকআপেও চোখ সুন্দর দেখায়






