পাটক্ষেতে লাশের ভিডিওর ঘটনা মুন্সীগঞ্জের নয়, ভারতের

ছবি: আগামীর সময়
পাটক্ষেতে পড়ে আছে এক শিশুর লাশ- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে সম্প্রতি। ভিডি্ওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, মরদেহটি মুন্সীগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের।
তবে যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান ছবিটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলায় উদ্ধার হওয়া এক মেয়ের লাশের চিত্র।
কী দাবি করা হচ্ছে?
গত ১১ আগস্ট বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলে ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ভিডিওতে একটি মেয়েকে নিথর অবস্থায় পাটক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তার আশেপাশে দাঁড়ানো ছিল কিছু মানুষ।
ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা- ‘মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় বিএনপির সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বাড়ির উঠান থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার দুই দিন পর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের আদরের ছোট মেয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে।’
ফেসবুকে ‘জয় বাংলাদেশ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আজ রবিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১৬ বার শেয়ার হয় ভিডিওটি, এতে ২১৯টি প্রতিক্রিয়া পড়ে। আরও কিছু পেজ ও আইডি থেকেও একই ক্যাপশনে ভিডিওটি ছড়াতে দেখা যায়।
আসল ঘটনা কী?
যাচাই করতে গিয়ে ‘উত্তর দিনাজপুর ইউথ কংগ্রেস অফিসিয়াল’ নামে একটি ফেসবুক পেজসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পোস্টে এই ভিডিওর ছবি পাওয়া যায়।
সেসব পোস্টে তথ্য বলছে, ভুক্তভোগী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার দিনহাটার ১১ বছর বয়সী এক শিশু। নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৪ জুন (২০২৬) তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টিভি১৯ বাংলা’এবং ‘ভাস্কর ইংলিশ’-এ ঘটনাটি সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তা থেকে জানা যায়, মেয়েটি ৩ জুন সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীরা খোঁজাখুঁজির পর এলাকার একটি পাটক্ষেতে তার লাশ পায়।
এছাড়া ‘কোচবিহার নিউজ’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনও পাওয়া যায়, যেখানে জানানো হয়েছে যে পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শিশুটির গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
এ থেকে প্রমাণিত, সামাজিক মাধ্যমে এখন প্রচারিত দাবিটি সত্য নয়। এই ভিডিওর লাশের দৃশ্যটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার, মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।










