বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সংস্কারের নামে এআই ভিডিও দিয়ে তারেক রহমানকে জড়িয়ে অপপ্রচার

ছবিঃ আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ভাস্কর্যটি সংস্কার করা হচ্ছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এ দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবি ও ভিডিওগুলো সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়; বরং ২০২০ সালে কুষ্টিয়া পৌরসভার পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সময় ভেঙে ফেলা ভাস্কর্যের ছবিই বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করে নতুন দাবি যুক্ত করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফেসবুকের “রিযিকের রাস্তা” নামের একটি পেজ থেকে গত ৩০ মার্চ একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, ভাঙা ভাস্কর্যটি নতুন করে সংস্কার করা হচ্ছে।
পোস্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বহু মানুষ এটিকে সত্য বলে ধরে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। পরবর্তীতে একই পেজ থেকে ৩ ও ৬ এপ্রিল আরও কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব ভাস্কর্য সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়া “সিমা নিউজ ২৪” নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই দাবিতে একাধিক ভিডিও ছড়ানো হয়।
ভিডিওতে একজন নারীকে মাইক হাতে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যেখানে বলা হয়- প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ভাস্কর্য সংস্কারের কাজ চলছে। তবে এসব ভিডিওতেও ব্যবহৃত ছবিগুলো সম্পাদিত বলে প্রমাণ মিলেছে। ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
ভাস্কর্যের আশপাশে থাকা বিলবোর্ডের লেখাগুলো দেখতে বাংলা অক্ষরের মতো হলেও সেগুলো কোনো অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে না, যা সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়। এছাড়া কিছু ছবির কোণায় এআই টুলের লোগো ও ওয়াটারমার্কও শনাক্ত করা গেছে, যা সম্পাদনার ইঙ্গিত দেয়।
রিভার্স ইমেজ সার্চে ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গে ভাইরাল ছবির মিল পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।
তুলনায় দেখা যায়, ভাইরাল ছবিতে অতিরিক্ত কিছু উপাদান- যেমন ভাস্কর্যের ওপর কাজ করা একাধিক ব্যক্তি- এআই দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সংস্কারের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওগুলো পুরোনো ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদিত এবং ভুয়া দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে। তাই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করা জরুরি।



