শরীয়তপুরে নারী নির্যাতনের সঙ্গে আ. লীগ করার সম্পর্ক নেই

ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুরে একজন নারীকে আওয়ামী লীগ করার কারণে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সঠিক নয়। ঘটনাটির সাথে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা চুরির অপবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গত ১৩ জুন, শরীয়তপুরের পালং এলাকায় ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে মাদক বিক্রির মিথ্যা অভিযোগে মারধর ও নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছিল, যা এখন ভিন্ন উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক রঙে ছড়ানো হচ্ছে।
আসল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রমাণ
ভিডিওটির প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ প্রযুক্তির সাহায্যে বেসরকারি টেলিভিশন ‘যমুনা টিভি’-র ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ‘প্রতিবেশীর সাথে বিরোধ; শরীয়তপুরে নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শরীয়তপুর পৌর এলাকার পালং শাবনূর মার্কেট এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই সন্তানের এক মাকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানা যায়, আর্থিক লেনদেন নিয়ে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে প্রতিবেশী দেলোয়ারের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির মিথ্যা অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়।
মূল ধারার গণমাধ্যমের অনুসন্ধান
দেশের জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকেও ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার একজন প্রবাসীর স্ত্রী (৩৭) সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিরোধ শুরু হয়।”
গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুই পক্ষের বক্তব্যেই তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধের কথা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তি—কোনো পক্ষ থেকেই এখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং মূল ধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এটি শতভাগ পরিষ্কার যে, ভাইরাল হওয়া দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো। শরীয়তপুরের পালং এলাকার ওই ঘটনাটি মূলত ধারের টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছিল। সেখানে চুরির অপবাদ বা "আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতন"—এমন দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।






