খুলনায় ৩ খুনের ছবি ভাইরাল, নেপথ্যে রাজনীতি নাকি পারিবারিক কোন্দল?

ছবি: আগামীর সময়
খুলনায় এক নারী ও তাঁর দুই নাতিকে হত্যার একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র রাজনৈতিক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে—আওয়ামী লীগ নেতা রফিক ভূঁইয়ার পরিবারের দুই সন্তানসহ তিনজনকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা অপহরণের দুই দিন পর হত্যা করেছে।
তবে আগমীর সময়ের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা বা অপহরণ নয়, বরং এটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
ভাইরাল দাবি ও প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিহতদের লাশের একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়, খুলনায় রফিক ভূঁইয়ার পরিবারের তিন সদস্যকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অপহরণের পর হত্যা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সংবেদনশীল দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
অনুসন্ধান ও আসল ঘটনা
ভাইরাল হওয়া ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে খুলনার স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘নবপ্রকাশ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সাথে এর হুবহু মিল পাওয়া যায়। স্থানীয় ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুস আমান মসজিদ এলাকার বিলপাড় রোডের একটি বাসা থেকে এক নারী ও তাঁর দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে দেশের মূলধারার জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতেও গতকাল (৩১ মে ২০২৬) একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমের তথ্য এবং পুলিশি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে যা জানা গেছে
নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় চার বছর আগে তাঁর প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে তিনি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার নামে এক ট্রাকচালককে বিয়ে করেন। কিন্তু রফিকুলের আগের সংসারের সন্তান এবং তাঁর মা (ফাতেমা বেগমের শাশুড়ি) বেবি বেগম এই বিয়েটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি।
শাশুড়ি বেবি বেগমের সাথে ফাতেমা বেগমের এই দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। ঘটনার আগের রাতে রফিকুল ইসলাম বাসায় আসেন এবং পরদিন সকালে বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ওই নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক শত্রুতার জেরে ওই নারীকে হত্যা এবং দুই শিশুকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি সম্পূর্ণ একটি পারিবারিক কলহের ঘটনা এবং এই ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং পুলিশি বিবৃতির পর এটি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, খুলনার এই তিন খুনের ঘটনাটির সাথে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক ভূঁইয়া কিংবা বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। পারিবারিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্বের জেরে ঘটে যাওয়া একটি অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ডকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।








