বাংলাদেশে হিন্দু হওয়ায় নর্দমায় ফেলে পাথর ছোড়ার দাবিটির নেপথ্যে কী

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক ব্যক্তিকে নর্দমায় ফেলে পাথর ছোড়া হয়েছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনের দাবি করা হচ্ছে। তবে তথ্য অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং একটি চুরির ঘটনার ভিডিওকে ধর্মীয় নির্যাতনের রঙ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ভিডিওর আসল উৎস ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো ধর্মীয় সহিংসতার নয়। গত ১৮ জুন ‘BEC’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এই ভিডিওটি প্রথম পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে ভিডিওটির মূল ক্যাপশনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—“মোবাইল চুরিতে ব্যর্থ, অতঃপর সাধারণ মানুষের গণধোলাই”।
বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, গত ১৬ জুন ‘Anamul Hasan’ নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই ঘটনাটির একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। ওই লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি নর্দমার ভেতর পড়ে আছেন এবং আশপাশের উপস্থিত লোকজন তাকে একজন মোবাইল ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত করছেন। ভিডিওতে সাধারণ মানুষকে তাকে নর্দমা থেকে ওপরে উঠে আসতে বলতে শোনা গেলেও, ওই ব্যক্তি নিজে থেকেই নর্দমা থেকে উঠছিলেন না।
ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো প্রমাণ নেই
একই ঘটনার আরও একাধিক ভিডিও ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া গেছে। সেসব ভিডিওর কোনোটিতেই ঘটনার সাথে কোনো ধর্মীয় কারণ, সাম্প্রদায়িক উসকানি কিংবা কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়ের নূন্যতম ইঙ্গিত বা প্রমাণ মেলেনি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং ফেসবুক লাইভের রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো ধর্মীয় নির্যাতনের ঘটনা নয়। এটি মূলত গত ১৬ ঢাকার যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের মারধর ও গণধোলাই দেওয়ার ঘটনার ভিডিও। যাত্রাবাড়ীর এই চুরির ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন ও মিথ্যা দাবি দিয়ে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।







