বিমানবন্দরে আটক ব্যক্তি জুলাই আন্দোলনের নেতা নন

ছবি: আগামীর সময়
বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসা এক ব্যক্তিকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিও নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে—সরকারি খরচে বিদেশে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় জুলাই আন্দোলনের এক নেতাকে বিদেশি মদসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি কোনো জুলাই আন্দোলনের নেতা নন, এমনকি বাংলাদেশিও নন—তিনি মূলত একজন ভারতীয় নাগরিক।
আসল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রমাণ
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের মূলধারার বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ২৪’-এ ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ‘রোগী সেজে চোরাচালান; অবশেষে ধরা’ ক্যাপশনে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
পরবর্তীতে একই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা পোস্ট’-এ প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘সিসিইউ রোগীর বেশধারী ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে মদ জব্দ’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারত থেকে আসা এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ রোগীর ছদ্মবেশে হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ দল তাঁকে তল্লাশি করে এবং তাঁর কাছে বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে রাখা মদের বোতল ও অন্যান্য পণ্য উদ্ধার করে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কাস্টমস সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম নজরুল এবং তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে সে সময় দেশের একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমেও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পুরো ঘটনার কোথাও ওই ব্যক্তির সাথে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সম্পৃক্ততা থাকার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এটি শতভাগ পরিষ্কার যে, ভাইরাল হওয়া দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে চড়ে রোগী সেজে মদ পাচারের চেষ্টাকালে আটক হওয়া একজন ভারতীয় নাগরিকের পুরোনো ভিডিওকে বর্তমানে জুলাই আন্দোলনের নেতার নামে জড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে প্রচার করা হচ্ছে।






