এবার মূল বিচারকের আসনে ভারতের পায়েল

পায়েল কাপাডিয়া (ছবি: কান উৎসবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট)
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিহাস রচনা করা ভারতীয় পরিচালক পায়েল কাপাডিয়া ভূমধ্যসাগরের তীরে আরেকবার ফিরছেন। ৬৫তম ক্রিটিকস’ উইকে জুরি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। তার রায়ে চূড়ান্ত হবে আসরের সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্র্যান্ড প্রাইজ জয়ী ছবি।
মর্যাদাসম্পন্ন কান চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম সমান্তরাল বিভাগ ক্রিটিকস’ উইক নতুন প্রতিভাবান নির্মাতাদের আবিষ্কার এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের তুলে ধরার জন্য নিবেদিত। ফরাসি সমালোচকদের সংগঠন এটি আয়োজনের মাধ্যমে উদীয়মান পরিচালকদের প্রথম ও দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ওপর আলোকপাত করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ক্রিটিকস’ উইকে ১১টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ছবি সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতায় লড়বে।
এবারের আসরে জমা পড়েছে ১ হাজার ৫০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ২ হাজার ৪০০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এতেই বোঝা যায় বিশ্বব্যাপী ক্রিটিকস’ উইক প্ল্যাটফর্মটির গুরুত্ব। এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে ১৩ থেকে ২১ মে পর্যন্ত।
২০২৪ সালে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়েই কান উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেন ভারতীয় পরিচালক পায়েল কাপাডিয়া। তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে স্বর্ণপামের জন্য মনোনীত হন। তার ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’ ছবির মাধ্যমে ৩০ বছর পর মূল প্রতিযোগিতায় ফিরেছে ভারতের নাম। ৭৭তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে গ্রাঁ প্রিঁ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। কান মঞ্চে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ সাফল্য।
১৯৮৬ সালে মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন পায়েল কাপাডিয়া। পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার (এফটিটিআই) শিক্ষার্থী নির্মাতা হিসেবে তার ‘আফটারনুন ক্লাউডস’ সিনেফঁদাসোতে নির্বাচিত হয় ২০১৭ সালে। ২০২১ সালে ডিরেক্টর’স ফোর্টনাইটে প্রদর্শিত ‘অ্যা নাইট অব নোয়িং নাথিং’ প্রামাণ্যচিত্রের জন্য গোল্ডেন আই পুরস্কার পান তিনি। তার গল্প বলার ধরন ও স্বতন্ত্রশৈলী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
কানের গত আসরে পায়েলকে দেখা গেছে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকের আসনে। এবার তিনি ক্রিটিকস’ উইকের জুরি সভাপতি। তার নেতৃত্বে বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে থাকবেন কানাডিয়ান অভিনেতা তিয়োদর পেলেরাঁ, ফরাসি গায়িকা ওক্লু, ঘানাইয়ান-ব্রিটিশ প্রযোজক আমা আম্পাদু এবং সাংবাদিক ও ব্যাংকক ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রধান ডনসারন কোভিৎভানিচা।
নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলোতে উদীয়মান প্রতিভাদের গল্প বলার শৈলী সম্মিলিতভাবে মূল্যায়ন করবেন জুরিরা। তাদের বিচারে দেওয়া হবে গ্র্যান্ড প্রাইজ, ফ্রেঞ্চ টাচ জুরি প্রাইজ, সেরা উদীয়মান অভিনয়শিল্পী পুরস্কার এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের লাইৎজ সিনে ডিসকোভারি প্রাইজ। ক্রিটিকস’ উইকের অংশীদারদের পুরস্কার হলো গ্যান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড (পরিবেশনা), এসএসিডি প্রাইজ, ক্যানাল প্লাস অ্যাওয়ার্ড। এসব সম্মাননা আগামীতে বৈশ্বিক সাফল্য প্রাপ্তির প্রাথমিক সূচক হিসেবে দেখা হয়। কারণ অনেক বিজয়ী নির্মাতা পরবর্তী সময়ে সমালোচকদের প্রশংসার পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
৬৫তম ক্রিটিকস’ উইকের প্রতিযোগিতা বিভাগ
> দ্য স্টেশন (সারা ইশাক, ইয়েমেন-স্কটল্যান্ড), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> ডুয়া (ব্লেরতা বাশোলি, কসোভো)
> লা গ্রাদিভা (মারিন এতলোঁ, ফ্রান্স), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> অ্যা গার্ল আননোন (জু চিং, চীন), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> সিক্স মান্থস ইন দ্য পিঙ্ক অ্যান্ড ব্লু বিল্ডিং (ব্রুনো সান্তামারিয়া রাফো, মেক্সিকো), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> আইরিশ ট্রাভেলার্স (আলেকজান্ডার মারফি, ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড)
> অ্যালাইভ (আইনা ক্লোতেঁত, স্পেন), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
স্পেশাল স্ক্রিনিংস
> ইন ওয়েভস (ফুয়োং মাই গুয়েন, ভিয়েতনাম-ফ্রান্স), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> ফ্লেশ অ্যান্ড ফুয়েল (পিয়ের ল্যু গাল, ফ্রান্স), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> স্টোনওয়াল (জুলিয়েন গ্যাসপার-অলিভেরি, ফ্রান্স), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
> গুডবাই ক্রুয়েল ওয়ার্ল্ড (ফিলিক্সি দ্যু জিভরি, ফ্রান্স), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র





