পর্তুগাল যেভাবে শুটিং হাবে পরিণত হচ্ছে

‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ সিরিজের শুটিং হয়েছিল পর্তুগালের মনসান্টো গ্রামে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
পর্তুগাল হয়ে উঠছে ইউরোপের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন শুটিং স্পট। একাধিক আন্তর্জাতিক টিভি সিরিজ ও সিনেমার শুটিং হয়েছে দেশটিতে। পর্তুগালও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় উন্নতি করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। অচিরেই শুটিং হাব হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের আলাদা জায়গা করে নেওয়ারে লক্ষ্য পর্তুগাল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির।
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার কেন্দ্র গড়ে তুলতে শুধু অর্থই যথেষ্ট নয়, এই বাস্তবতা অবশ্য ভালোভাবেই বুঝে গেছে পর্তুগাল। রাজধানী লিসবনে প্রথম স্ট্রিমটিভি ইউরোপ সম্মেলনের এক আলোচনায় উঠে আসে এই বার্তা, যেখানে ‘পর্তুগাল অন স্ক্রিন’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেন দেশটির শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
পর্তুগাল ফিল্ম কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আনা মার্কেস বলেন, “বিদেশি প্রযোজকদের কাছে পর্তুগালকে আকর্ষণীয় করে তুলছে এর বৈচিত্র্যময় লোকেশন, আর্থিক প্রণোদনা এবং টেকসই প্রযোজনা।’
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় পর্তুগিজ সিরিজ ‘টার্ন অব দ্য টাইড’। এর তিনটি সিজন ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ সিরিজের কিছু অংশ ধারণ করা হয়েছে পর্তুগালের ঐতিহাসিক গ্রাম মনসান্তোতে, আর ‘দ্য অ্যাকোলাইট’ সিরিজের শুটিং হয়েছে ম্যাদেইরা দ্বীপে। এর পাশাপাশি হলিউড সিনেমা ‘হার্ট অব স্টোন’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘ড্যামসেল’-এর মতো বড় প্রযোজনার সিনেমাও হয়েছে এই দেশে।
আনা মার্কেস বলেন, ‘অসাধারণ লোকেশনই আমাদের স্বপ্ন দেখায়। আর্থিক প্রণোদনাও দিচ্ছি, যাতে আমরা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টেকসই প্রযোজনা।” তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড় বাজেটের প্রযোজনার চাহিদা মেটাতে নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা স্কিম চালু করেছে দেশটি।
বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনাও পর্তুগালের বড় শক্তি। অ্যাপিটের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট সুষানা গাতো বলেন, ‘আমরা যৌথ প্রযোজনা করতে ভালোবাসি।’ উদাহরন হিসেবে সামনে হাজির করেন আইসল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত সিরিজ ‘কোল্ড হ্যাভেন’।
বর্তমানে পর্তুগালের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি কো-প্রোডাকশন চুক্তি রয়েছে। প্রযুক্তিও এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিজিটাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে কাজ করছে দেশটি। ইউনিকর্ন ফ্যাক্টরি লিসবোয়ার নির্বাহী পরিচালক গিল আজেভেদো জানান, পর্তুগাল এখন উৎপাদনের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তুলছে, যাতে এটি একটি সফল প্রোডাকশন হাব হয়ে উঠতে পারে।
তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন আনা মার্কেস। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো পর্তুগালও মাঝে মাঝে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। তবুও সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে দেশটির প্রযোজনাবান্ধব পরিবেশ আরও উন্নত করা হচ্ছে।
২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা পর্তুগাল ফিল্ম কমিশন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। মার্কেস জানান, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, পর্তুগালে শুটিংয়ের জন্য আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে পর্তুগালে শুটিংয়ের জন্য আবেদন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৯ সাল পর্যন্ত চার বছরের নতুন একটি কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যার বাজেট ৩৫ কোটি ইউরো (প্রায় ৪১ কোটি ২০ লাখ ডলার)। এতে থাকবে দুটি ভিন্ন ধরনের প্রণোদনা সুবিধা।
সব মিলিয়ে, আরও বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টিভি প্রযোজনাকে আকৃষ্ট করতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত পর্তুগাল।
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার



